কালো বলে তালাক!

নিম্নের খবরটি আমি আমার ব্লগে না শেয়ার করে পারলাম না, প্লিজ পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।
কালো বলে তালাক!
বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে বরপক্ষ। জমিজমা বিক্রি করে মেয়ের বাবা বরের হাতে তুলে দেন এক লাখ টাকা। বাকি দেড় লাখ টাকা তিনি পরে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্ত- বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় তালাকনামা পাঠায় বর। মেয়ের অপরাধ-তিনি দেখতে কালো। এটি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘটনা।
কথিত তালাকনামা পাওয়ার পর মেয়ের কান্না আর থামছে না। ১৯ বছরের ওই মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাঁচতে চাই না। কালো হওয়ায় আমার কপাল পুড়ল। আল্লাহ্‌ কেন আমাকে কালো করল। এই মুখ আমি কাউকে দেখাতে চাই না।’
মেয়ের এমন হাল দেখে বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও মুষড়ে পড়েছেন। মেয়ের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হতভাগীকে এত করে সবাই বোঝাচ্ছি, কিন্ত- সে বুঝতে চাইছে না। শুধু কাঁদছে।’
জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার আমরুলবাড়ী গ্রামের সচ্ছল পরিবারের মেনহাজুল ইসলামের (২৩) সঙ্গে গত ৩০ এপ্রিল মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়। এ জন্য মেয়ের বাবা ছেলেপক্ষকে আড়াই লাখ টাকাসহ আসবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মেনহাজের বাবা আমিনুল ইসলাম ওই দিনই মেয়ের বাবাকে কাজী ডেকে বিয়ে নিবন্ধন করার অনুরোধ করেন। মেয়ের বাবাও প্রস্তাবে রাজি হন। কিন্ত- নিবন্ধনের আগেই যৌতুকের সব টাকা চান আমিনুল ইসলাম। বেকায়দায় পড়েন মেয়ের বাবা। এরপর তিনি বিক্রি করেন আবাদি ৬৯ শতাংশ জমি। শেষমেশ যৌতুকের আড়াই লাখ টাকার মধ্যে তিনি বরের বাবার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন। এরপর ২ মে কাবিননামামূলে বিয়ে নিবন্ধন হয়। ৮ মে কনেকে তুলে দেওয়ার সময় বাকি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়ের বাবা।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাবিনের পর মেয়ের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। ৬ মে বরের এক বোন মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফিরে তিনি ওই মেয়েকে ঘরে না তোলার পরামর্শ দেন ভাইকে। কারণ মেয়েটির গায়ের রং কালো। এরপর বিয়ের সব আনন্দ-আয়োজন বিষাদে রূপ নেয়। ছেলে ও তাঁর বাবা কনেকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান।
বর মেনহাজের এক কথা, ‘মেয়ে কালো। ওই মেয়েকে বিয়ে করব না।’ বাধ্য হয়ে মেয়ের বাবা যৌতুক বাবদ দেওয়া এক লাখ টাকা ফেরত চান। কিন্ত- ছেলের বাবা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। গত ২৫ মে বর মেনহাজ রংপুর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কনের কাছে তালাকনামা পাঠান।
এ ঘটনার পর চোখের পানি ফেলতে ফেলতে মেয়ের বাবা বলেন, ‘মানসম্মান রক্ষার্থে ছেলের বাবার হাত-পা ধরেছিলাম। তবু তাঁরা আমার মেয়ের কাছে তালাকনামা পাঠিয়েছে। এখন তারা যৌতুক বাবদ টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করছে।’
বরের এলাকা বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ে নিবন্ধন হয়েছিল, কিন্ত- মেয়ে নাকি কালো। তাই ছেলে বিয়ে করতে চাইছে না। ছেলে তালাকনামা পাঠিয়েছে।’
বরের বাবা আমিনুল বলেন, ‘আমার ছেলের মেয়ে পছন্দ হয়নি। তাই তালাক দিয়েছে।’ যৌতুক নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসার করার আগে কেউ কাউকে টাকা দেয় না। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।’
মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বর মেনহাজ বলেন, ‘আমার মতামত না নিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করা হয়। তা ছাড়া মেয়েটি কালো। এ কারণে তালাক দিয়েছি।’ বিয়ের আগে মেয়ে দেখেছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘রাতে মেয়ে দেখেছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি।’
তবে নিকাহ নিবন্ধক আবু মুসা বলেন, ‘আমি ওই বিয়ের নিবন্ধন করেছি। ছেলে স্বেচ্ছায় কাবিননামায় সই করেছে।’
রংপুরের আইনজীবী সিরাজ আহম্মেদ বলেন, প্রচলিত আইনে নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট করে কোর্ট ম্যারেজ বা তালাক দেওয়ার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এটা একমাত্র নিকাহ নিবন্ধক করতে পারেন। মেয়েপক্ষ চাইলে এ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সৌজন্যেঃ প্রথম আলো

About riton

Whoa!! Finally you came to this page to know about me? that sounds cool. So here is what i am....... want to know more.... i have a lovely wife whom i love forever....... That's not all about me, i do have a job and a house to live and some food and a bed to sleep in.....and I love blogging! Good Luck!!!!
This entry was posted in এলোমেলো and tagged . Bookmark the permalink.

One Response to কালো বলে তালাক!

  1. ALI says:

    I hate all those people whose are doing like that……I can't say more.
    They are too much bad than Golam Azam,Motiur Rahman Nizami or Like that.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>