ঘরেই গড়ে তুলুন গ্রন্থাগার
বই পড়তে ভালোবাসে না এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। ছোট হোক বড় হোক, যে ধরনেরই বই হোক, জ্ঞানপিপাসু মানুষ বই পড়তে ভালোবাসে। বই পড়তে পড়তে হয়তো কেউ গড়ে তোলে গ্রন্থাগার নিজ বাসভবনে।
নিজের বাসভবনের একটা ঘরজুড়ে বইয়ের সংগ্রহশালা অর্থাৎ ছোটখাটো একটা গ্রন্থাগার তৈরি করেছেন সাভারের বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা মির্জা সুরাইয়া আফরোজ। তিনি বলেন, ‘একদিন ঢাকা থেকে সাভার যাওয়ার পথে অনেক বই কিনে আনার সময় সেগুলো হারিয়ে যায়। সেদিন যে কষ্ট পেয়েছি, তা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। বিয়ের পর আমার স্বামী আমাকে নিজের ইচ্ছায় বই সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে অনেক অনুপ্রেরণা দেয়। নিজে শিক্ষকতা শুরু করি, ফলে ছোট্ট সংসারের একটা অংশ হয়ে যায় আমার বইয়ের সংগ্রহশালা। বাড়তে থাকে বইয়ের সংখ্যা। অবশেষে নিজের বাসভবনের একটা ঘরকে গ্রন্থাগার হিসেবে সাজিয়ে তাতে আমার বইগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করি।
বই সংগ্রহের পাশাপাশি সেসব যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য একটা ঘরে শেলফে বই সাজিয়ে ছোটখাটো গ্রন্থাগার তৈরি করেছি। আর প্রতিটি বইয়ের নাম ও লেখকের নামের তালিকা আমার নিজস্ব ডায়েরিতে লিখে রেখেছি। শেলফে বই রাখার ক্ষেত্রে আমার কাছে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তা আমি সামনের সারিতে রেখেছি আর বাকিগুলো পেছনে রেখেছি। শেলফের বই যাতে নষ্ট না হয় এ জন্য বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে নিমপাতা, ন্যাপথলিন, মেডিসিন-জাতীয় ওষুধের গুঁড়ো ছিটিয়ে দিই। সপ্তাহে অন্তত দুবার সংগ্রহের বইগুলো যত্ন করার চেষ্টা করি।’ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার পাশাপাশি বইয়ের সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনি জানান, বই শুধু সংগ্রহ করে রেখে দিলে হবে না সেগুলো পড়তে হবে। যত্ন করতে হবে প্রতিটি বইয়ের। তবেই তো মনুষ্যত্বের মহিমায় মানুষ নিজের জীবনকে যথার্থ করে তুলতে পারবে।
ঘরে গ্রন্থাগার গড়ে তোলাঃ বই সংগ্রহ করা আর বই পড়া যাঁদের খুব পছন্দ বা শখ, তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বই সংগ্রহ করে নিজেরাই ঘরে বসে গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে পারেন। এ বিষয়ে ‘সেড’-এর লাইব্রেরি ইনচার্জ সানজিদা খান জানান, গ্রন্থাগার হচ্ছে জ্ঞানভাণ্ডার। যেকোনো উপায়ে যে কেউ দেশবিদেশের বিভিন্ন বই, জার্নাল প্রভৃতি সংগ্রহ করে গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে পারে ঘরে বসে। তবে অবশ্যই গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বই সংগ্রহ করে রাখার জন্য নির্দিষ্ট স্থানকে বিবেচনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো শেলফে বই রাখা যেতে পারে সাজিয়ে। শেলফের একেকটা তাকে উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী, প্রবন্ধ, গবেষণামূলকসহ বিভিন্ন ধরনের বই পৃথক পৃথকভাবে সাজিয়ে রাখা যায়। আবার শেলফের তাকগুলোয় নম্বর দিয়ে রাখা যায়। অবশ্যই বইয়ের যে অংশে লেখকের নাম ও বইয়ের নাম আছে, সেটাকে সামনে রাখতে হবে, যাতে যেকোনো পাঠকের দৃষ্টি কাড়ে আর সহজে নিজের প্রয়োজনে বই খুঁজে পাওয়া যায়। শেলফে লেখকের নাম ও বইয়ের নাম অনুসারেও বইগুলো রাখা যায়। শেলফের প্রতিটি তাকে যে সংখ্যক বই রাখা হবে, এর একটা হাতে লেখা তালিকা অথবা কমিপউটারে নরমাল তালিকা করে রাখা যেতে পারে বর্ণমালা অনুসারে। বুক এক্সটেনশন খাতা রাখতে হবে। ফলে বইয়ের তালিকা, লেখকের নাম, বইয়ের প্রকাশকাল, বইয়ের নাম ইত্যাদি বিষয়ের হিসাব থাকবে। কোনো বই যদি হারিয়ে যায়, তবে সে তা বুঝতে পারবে। আবার নিজ গ্রন্থাগারে যেসব বই রয়েছে, তা যাতে চুরি না হয়ে যায় সে জন্য কেউ ইচ্ছা করলে নিজের নাম দিয়ে ব্যক্তিগত সিল তৈরি করে বইয়ের মধ্যে দিয়ে দিতে পারে। অবশ্যই খোলামেলাভাবে বই সাজিয়ে রাখতে হয় গ্রন্থাগারের শেলফে।
সতর্কতা
বইয়ের মধ্যে পোকা ধরে যাতে বইয়ের কোনো ক্ষতি না করতে পারে।
সম্ভব হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রি ঘরে বই রাখা দরকার।
দুই মাসে অন্তত একবার ন্যাপথলিন গুঁড়ো করে দিলে বইয়ের পৃষ্ঠার কোনো ক্ষতি হয় না।
পুরোনো বই হলে তা বাঁধাই করে রাখা যেতে পারে।
অনেকে সিটলের তৈরি শেলফ ব্যবহার করলেও কাঠের তৈরি শেলফ ব্যবহার করা ভালো।
বইয়ে যাতে ধুলোবালি জমে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
শেলফে নম্বর দিয়ে বিষয় বা লেখকের নাম অনুযায়ী সাজিয়ে রাখলে বই খুঁজে পেতে সহজ হবে, আর বইয়ের হিসাবও থাকবে।
গ্রন্থাগারের বইগুলো বিশৃড়খলভাবে না রেখে বিন্যস্ত করে রাখলে যে কারও দৃষ্টিনন্দনের বিষয় হতে পারে।
বই পড়ার পর বইয়ের পৃষ্ঠা যেন ভাঁজ হয়ে না থাকে।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
