একটি লেখায় হাসান শাহরিয়ার বলছেন;
“একাত্তরের সতেরো মার্চ মুজিব বলেছিলেন- “আমি আমার জন্মদিনের উৎসব পালন করি না। এই দুঃখিনী বাঙলায় আমার জন্মদিনই বা কি আর মৃত্যুদিনই বা কি?” লেনিনের একটি ঘটনার সঙ্গে মিল আছে কথাটির। উগ্রপন্থী এক বিপ্লবীর গুলিতে আহত হওয়ার পর চিকিৎসায় সেরে ওঠা লেনিনের নিরাপত্তায় ম্যালকভকে দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রথম যেদিন নিজের গাড়ির পেছনে দেহরক্ষীর গাড়িটিও দেখতে পান লেনিন, জানতে চেয়েছিলেন- “আমার ওপর এই নজরদারির মানে?” উত্তরে ম্যালকভ পার্টির সিদ্ধান্তের কথা জানালে লেনিন বলেছিলেন- “সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের মুখে আমি এখনও দু বেলা দু মুঠো খাবার তুলে দিতে পারিনি; অথচ আমাকে পাহারা দেওয়ার জন্য পৃথক একটি গাড়ি; তার জন্য একজন ড্রাইভার; আর রাষ্ট্রের বাড়তি তেলখরচা! পাহারা দিতে হয়, আমার গাড়িতে উঠে এসো।”
লেনিন কিংবা মুজিবের পৃথিবী আজ নেই। তাই প্রথম অধিবেশনেই সাংসদদের শুল্কমুক্ত গাড়ির বিল পাশ হয় মুজিবকন্যার নেতৃত্বাধীন সংসদে। ৪৮ সেনাকর্মর্তার নামে শোকপ্রস্তাব আনার সময় স্পিকার-সাংসদ কারুরই বিডিআর-নাশকতায় নিহত ঐ রিকশাঅলা বা সব্জিবিক্রেতা বা ছাত্রের নাম মনে থাকে না, যাদের কথা মিডিয়ায় আগে এসেছে। কতিপয় বিডিআর সদস্যের অপরাধের কারণে একটি শতাব্দীপ্রাচীন প্রতিষ্ঠানের নামপরিবর্তনের কথা বলার সময় সেনাকর্মকর্তাদেরও ভাবনায় আসে না, তাহলে তো ১৫ আগস্টসহ অতীতের অনেক হত্যাযজ্ঞের জন্য সেনাবাহিনীরও নামপরিবর্তন করতে হয়।”
