স্লামডগ February 24th, 2009

স্লামডগ মিলিয়নিয়ার সিনেমাটি গতকাল আটটি বিভাগে অস্কার জেতায় ভারতের পুরী সমুদ্রসৈকতে বালি দিয়ে পুরস্কারের প্রতিকৃতি গড়েছেন শিল্পী পাটনায়েক।
এবার যারা অস্কার জিতলো February 23rd, 2009

সেরা পরিচালনা : ড্যানি বয়লি (স্লামডগ মিলিয়ানেয়ার)
সেরা মৌলিক গান : এ আর রহমান এবং গুলজার ((স্লামডগ মিলিয়ানেয়ার ছবির ‘জয় হো’ গানের জন্য)
সেরা অরিজিনাল স্কোর : এ আর রহমান (স্লামডগ মিলিয়ানেয়ার ছবির জন্য)
সেরা ছবি সম্পাদনা : ক্রিস ডিকেন্স্ (স্লামডগ মিলিয়ানেয়ার ছবির জন্য)
সেরা সাউন্ড মিক্সিং : জন ট্যাপ, রাসেল পুকুটি এবং রিচার্ড প্র্যাক (স্লামডগ মিলিয়ানেয়ার ছবির জন্য)
সেরা সিনেমাটোগ্রাফি : অ্যান’নি ডড ম্যান্টেল (স্লামডগ মিলিয়ানেয়ার ছবির জন্য)
সেরা অভিযোজিত স্ক্রিন প্লে : সিমোন ব্যেফয় (স্লামডগ মিলিয়ানেয়ার ছবির জন্য)
স্বল্প বিষয়ভিত্তিক সেরা প্রামাণ্যচিত্র: মিগান মিলান (স্মাইল পিংকি)
সেরা অভিনেতা : শন পেন (মিল্ক ছবির জন্য)
সেরা অভিনেত্রী : কেট উইন্সলেট (দ্য রিডার ছবির জন্য)
সেরা বিদেশী ভাষার ছবি : ডিপারচারস্ (জাপানের ছবি)
সেরা শব্দ সম্পাদনা : রিচার্ড কিং (ডার্ক নাইট ছবির জন্য)
সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট : এরিক বারবারা ( দি কিউরিয়াস কেইস অফ বেঞ্জামিন বাটন ছবির জন্য)
সেরা ডকুমেন্টারিভিত্তিক ফিচার ফিল্ম : জেমস মার্শ (ম্যান অন ওয়ার ছবির জন্য)
সেরা সহ অভিনেতা : হিথ লেজার (ডার্ক নাইট ছবির জন্য)
সেরা লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম : জসেন আলেকজেন্ডার (স্পিলজিউজল্যান্ড টয়ল্যান্ড’র জন্য)
সেরা মেকআপ : গ্রেগ ক্যানম (দি কিউরিয়াস কেইস অফ বেঞ্জামিন বাটন ছবির জন্য)
সেরা কস্টিউম ডিজাইন : মিশেল ও’কোনর (দ্য ডাচেজ ছবির জন্য)
সেরা আর্ট ডিরেকশন : ডোনাল্ড গ্রাহাম বার্ট (দি কিউরিয়াস কেইস অফ বেঞ্জামিন বাটন ছবির জন্য)
আমরা কি স্বার্থপর জাতি? February 21st, 2009
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। বীরের রক্তস্রোত ও মায়ের অশ্রুধারায় সিক্ত এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও। বাঙালির অতুলনীয় আত্মত্যাগ ও গৌরবের অমর দিবস আজ। ভাষা আন্দোলন কয়েকটি জীবন কেড়ে নিলেও দিয়েছে অনেক বেশি। এই ভাষা আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়েই আমরা পৌঁছেছি স্বাধীনতা সংগ্রামে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাঙালি জাতির পরম গৌরবের হাজার বছরের স্বপ্ন ও সাধনার বাংলাদেশ।
গতকাল একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “ইংরেজির মতো করে বাংলা বলা থেকে বিরত থাকুন”। আশাকরি তিনি কথাটি হৃদয় থেকে উপলব্ধি করেই বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চারণকে সাধুবাদ জানাই।
৫২র যেসব ভাষা শহীদের আ্ত্মদানে বাংলা রাষদ্ব্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে, যার পথ ধরে এসেছে স্বাধীনতা, একুশে ফেব্রুয়ারি পেয়েছে আ্নতর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা, মাসজুড়ে আয়োজিত হচ্ছে বইমেলা, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য সেই মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের পূর্ণাঙ্গ কোনো জীবনীগ্রন্থ নেই! ভাষা আন্দোলনের ৫৬ বছর পরও তাদের জীবনীগ্রন্থ রচনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ সংক্রান্ত একটি বই পাওয়া গেলেও তাতে মূলত রিপোর্টিং আকারে রয়েছে কেবল পরিচিতি। বাংলা একাডেমী প্রকাশিত সংক্ষিপ্ট্ল পরিচিতিমূলক একটি বই থাকলেও তাও এখন বাজারে নেই। জাতি হিসাবে আমরা আর কত স্বার্থপর হবো কেউ কি বলতে পারেন?
মন কি পুড়লো মনপুরায়? February 16th, 2009

মনপুরা’র প্রতি শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ল দর্শকের তুমুল কৌতূহল ছিল। ছবির গানগুলোর আকাশচুল্ফ্বী জনপ্রিয়তা এবং নাট্য নির্মাণে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সাফল্যের সুবাদেই এমন প্রত্যাশার জন্ম। সেই প্রত্যাশা কতটুকু পহৃরণ হয়েছে? এর উত্তর নিয়ে ‘নানা মুনির নানা মত’ থাকবে, এটাই স্ট্বাভাবিক। সে প্রসঙ্গ রেখে বলা যাক গতকালের চিত্র। গতকালই দেশের পাঁচটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ছবিটি। এর মধ্যে বলাকা প্রেক্ষাগৃহের দেয়ালে বিশাল পোসদ্বার লাগানো হয়েছে। সেখানে লেখা বাংলার প্রেমের ছবি ‘মনপুরা’। বলাকার প্রধান ফটকের বাইরে বড় আকারে জটলা। প্রদর্শনীতে আসা আমন্পিতদের বেশিরভাগকেই অনেক কষেদ্ব সেই ভিড় ঠেলে প্রেক্ষাগৃহে ঢুকতে হলো। একে একে ছবির কলাকুশলী, কয়েকজন চলচ্চিত্রকার এবং বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্কপ্পী ও সঙ্গীতশিল্কপ্পী হাজির হলেন। প্রেক্ষাগৃহ পহৃর্ণ হতেই পর্দার সল্ফ্মুখভাগে হাজির হলেন পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম, ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মাছরাঙা প্রোডাকশন্সের ব্যবস্ট্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্ট্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। তারা দর্শকদের উদ্দেশে প্রশু ছুড়লেন, ‘মনপুরা’ ১৩ ফেব্রুয়ারি নাকি পহেলা ফাল্কগ্দুন মুক্তি পাচ্ছে? দর্শকদের সমবেত উত্তর- ‘পহেলা ফাল্কগ্দুন’। গিয়াস উদ্দিন সেলিম তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই দিনটির জন্য আমি অনেক অপেক্ষা করেছি। ছবিটি নির্মাণে আমাকে অনেক মানুষ সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। এত মানুষের নাম বলে শেষ করা যাবে না। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আসুন আমরা ছবিটি দেখি।’
জাতীয় পতাকার প্রতি সল্ফ্মান জানিয়ে শুরু হলো ‘মনপুরা’র প্রদর্শনী। প্রথম দৃশ্যে সোনাই [চঞ্চল চৌধুরী] কল্ফ্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। মেঝেতে তার সামনে একটি শিকল। এটা দেখেই হুড়মুড় করে সোনাই ছুটল গাজী সাহেবের [মামুনুর রশীদ] কক্ষে। তড়িঘড়ি করার উদ্দেশ্য, গাজীর ছেলে হালিম [মনির খান শিমুল] বাড়ির কাজের মেয়ে রহিমাকে খুন করেছে! স্ট্পীর সঙ্গে পরামর্শ করে গাজী দেশান্লরি করে মনপুরা চরে পাঠিয়ে দেন সোনাইকে। বেজে ওঠে ফজলুর রহমান বাবুর গাওয়া ‘নিধুয়া পাথারে নেমেছি বল্পব্দুরে’ গানটি। একা একা চরে অনেকদিন কাটানোর পর হাকিম আলী [ফজলুর রহমান বাবু] ও তার মেয়ে পরীর [ফারহানা মিলি] সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার। এক সময় রোমিও-জুলিয়েটের মতো একে অপরের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে সোনাই ও পরী। কিন্তু খুনের অপরাধ কাঁধে নিয়ে চলা সোনাই হাজতে গেলে পরীর বিয়ে হয় হালিমের সঙ্গে। মমতাজের গান ‘আগে যদি জানতাম রে বল্পব্দু, তুমি হইবা পর’ গানটি শোনা গেল তার আগেই। এক পর্যায়ে সোনাই জামিনে ছাড়া পায়। কিন্তু তার ফাঁসির গুজব শুনে বিষ খেয়ে আ্ত্মহত্যা করে পরী। এই হচ্ছে ‘মনপুরা’র গল্কপ্প।
প্রদর্শনী শেষে একটি প্রশেুর উত্তর পাওয়া গেল না! হালিম পাগল বলেই হয়তো রহিমাকে খুন করেছে। কিন্তু কেন খুন করেছে তা সঙষদ্ব হয়নি। আবার, বিয়ের পর পরীর প্রতি হালিমের ব্যবহারে এমন মনে হয়নি, হালিম কোনো নারীকে খুন করতে পারে। স্ট্বল্কপ্প সংলাপ নির্ভর পরী চরিত্রটিকে অভিব্যক্তি আর অভিনয় দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন মিলি। তবে, কয়েকটি দৃশ্যে তার হাঁটার ভঙ্গি গ্রামীণ মেয়েদের মতো না হয়ে র্যামঙ মডেলদের মতো মনে হয়েছে। ছাগল ছানার সঙ্গে শুয়ে সোনাইয়ের কথোপকথন আর ‘আমার সোনার ময়না পাখি’ গানের শেষ দৃশ্যে বালুর ওপর দিয়ে মিলির হেঁটে যাওয়ার দৃশ্যটি উপভোগ্য। চিত্রগ্রহণে কামরুল হাসান খসরু প্রশংসনীয় কাজ দেখিয়েছেন। চঞ্চল চৌধুরী, মনির খান শিমুল, মামুনুর রশীদ ও ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয় মনে রাখার মতো। এছাড়া, অর্ণবের আবহ সঙ্গীত মন কাড়ে।
