এসো হে বৈশাখ [Happy Bangla New Year] April 13th, 2009

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ। বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান উৎসব। প্রাণে প্রাণ মেলানোর উৎসব। জীর্ণ পুরনোকে ভাসিয়ে দিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরুর দিন। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে সবার উৎসবমুখর হয়ে ওঠার দিন। কবির ভাষায় আজ নব আনন্দে জাগুক প্রাণ। নতুন সূর্যের সামনে বাঙালি আজ প্রণতি রাখবে “জীর্ণপুরাতন যাক ভেসে যাক, মুছে যাক গ্লানী’/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে’ঃ । বাঙালি সংস্কৃতির এক অসাধারণ ব্যঞ্জনা নিয়ে আমাদের দুয়ারে এবারের নববর্ষ সমুপস্থিত। প্রাণে প্রাণে হিল্লোল জাগাতে, মনে-মনে ঐকতান রচনা করতে আর মানুষে মানুষে বিভেদ ঘুচাতে নববর্ষ নব চেতনায় স্নাত করে সবাইকে। সেই কাকডাকা ভোরে পূর্ব দিগন্তে বছরের প্রথম দিনের সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় বাঙালি চিত্ত অধীর হয়। আর সে সূর্য অতি সন্তর্পণে বসন্তের শেষ দিবসের কুহেলিকা ভেদ করে ১লা বৈশাখে তার হাসিরচ্ছটায় বাঙলার প্রকৃতিতে তার নবীন রূপ-রস-গন্ধ সুধা কানায় কানায় পূর্ণ করে তোলে। নববর্ষ আমাদের জাতীয় উৎসব। এটি ধর্ম বা সম্প্রদায়নির্ভর কোনো অনুষ্ঠান নয়। এটি সব শ্রেণীর, সব গোত্রের সব অঞ্চলের সব স্তরের বাঙালির জাতীয় উৎসব। এই উৎসবের মূল বাণী হলো নতুন বছরে আমার আনন্দটুকু সবার আনন্দ হোক, আমার শুভটুকু সকলের শুভ হয়ে উঠুক। সবার সঙ্গে আমার যোগ হোক প্রীতিময়, হোক গভীরতর। এই শুভ কামনা বাঙালি শুধু সকল বাঙালির জন্য কামনা করেনা, কামনা করে সকল মানুষের জন্য। বৈশাখের আগমনী সেতো রুদ্র ঝড়ের নৃত্য! নটরাজ যেন তার প্রলয় নাচন নাচতে বৈশাখের রথে চেপে নেমে আসে বাঙলার প্রকৃতিতে। নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতিকে আমাদের সভ্যতাকে আমাদের ভেতরকার সত্যিকারের মানুষটিকে তথা মনুষ্যত্বকেই সকলের সামনে উঁচু করে মেলে ধরে। ১৪১৬ সালের শুভাগমনকে ঘিরে সমস্ত উৎসব আয়োজন আনন্দময় হোক, নির্বিঘ্ন হোক।
আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েডের জন্য গুগলের নতুন জিমেইল ওয়েব ভার্সন April 9th, 2009
দ্রুত গতিতে অনলাইন ইমেইল সেবা আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের প্রদানের লক্ষ্যে সম্প্রতি গুগল চালু করেছে তাদের নতুন জিমেইল ওয়েব ভার্সন। জিমেইলের এই নতুন ওয়েব ভার্সনের মাধ্যমে আইফোন এবং এনড্রয়েড মোবাইল ব্যবহারকারীরা বর্তমানের তুলনায় দ্রুতগতিতে জিমেইল ব্যবহার করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সাথে নতুন এই জিমেইল ভার্সনে নতুন সুবিধা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েডেই মাল্টিপল মেসেজ সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি তার জিমেইল আর্কাইভ তৈরি করতে সক্ষম হবে। গুগলের এই নতুন জিমেইল ওয়েব ভার্সনটি অনলাইনে গতকাল হতে সহজলভ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল কর্তৃপক্ষ। আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগলের গুগল মোবাইল ব্লগ হাতে পেতে সক্ষম হবে। মূলত গুগলের নতুন এই জিমেইল ওয়েব ভার্সনে একজন ব্যবহারকারী অতি সহজেই ইমেইল আদান-প্রদান, নেভিগেশন, সার্চিং সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে বর্তমানের তুলনায় অধিক স্বাচ্ছন্দ্যে এবং দ্রুতগতিতে। একই সাথে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এই জিমেইল ওয়েব ভার্সনে আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা পিসির ন্যায় মানসম্পন্ন জিমেইল সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত বিশ্বজুড়ে আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গুগল কর্তৃপক্ষ অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই জিমেইলের ওয়েব ভার্সন চালু করেছে যার মাধ্যমে গুগলের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
Germany blocks using Skype on Iphone April 5th, 2009
অ্যাপলের জনপ্রিয় আইফোন এবং আইপড টাচ-এ স্কাইপে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে জার্মান টেলিকম। আইফোন এবং আইপডে অনলাইন ভিত্তিক স্কাইপে সার্ভিস চালুর ঘোষণা আসার পর কোন টেলিকম প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আইফোন এবং আইপড টাচ-এ স্কাইপে ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। ই-বে’র মালিকানাধীন স্কাইপে সার্ভিস ব্যবহারের মাধ্যমে বিনামূল্যে ভয়েস, ভিডিও কল এবং ইন্সট্যান্ট মেসেজ সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ থাকায় সারাবিশ্বে স্কাইপে সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪০৫ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। স্কাইপে ব্যবহারকারীদের অধিকতর সেবা প্রদানের সুযোগ করে দিতে অ্যাপলের আইফোন এবং আইপডে স্কাইপে ব্যবহারের প্রযুক্তি চালু করা হয়। কিন্তু জার্মান টেলিকম এক্ষেত্রে সে দেশে আইফোন এবং আইপডে স্কাইপে ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে তাদের নিজেদের ব্যবসার সমৃদ্ধি রক্ষার্থে।
শ্রীলঙ্কা April 4th, 2009
শ্রীলঙ্কা, নীরবতার চাদরে ঢাকা তামিল নিধন
অর”ন্ধতী রায়
শ্রীলঙ্কায় একটানা ভয়াবহতা ঘটে চলতে পারছে, কারণ তামিল নিধনের ঘটনাকে নীরবতার চাদর দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। আন-র্জাতিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রায় কোনো কথাই ওঠেনি। এমনকি যেখানে আমি বাস করি, সেই ভারতের বড় মিডিয়াগুলোও এ নিয়ে চুপ। কী ঘটছে সেখানে? ছাঁকনি পেরিয়ে সামান্য যে খবরাখবর আসছে, তাতে মনে হ”েছ শ্রীলঙ্কার সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’র ধুয়া তুলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। তারা সকল গণতান্ত্রিক রীতিনীতি শিকেয় তুলে তামিল জনসাধারণের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালা”েছ।
শ্রীলঙ্কা সরকারের সোজাসাপটা নীতিটা এইঃ প্রতিটি তামিল নাগরিকই সন্ত্রাসী; তারা যে নির্দোষ তা প্রমাণের দায়িত্ব তাদেরই। এই চিন-া থেকে বেসামরিক অঞ্চল, হাসপাতাল এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় নির্বিচার হামলা চলছে। সেগুলোকে পরিণত করা হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে। নির্ভরযোগ্য হিসাবমতে, সেখানে দুই লাখ মানুষ যুদ্ধের ফাঁদের মধ্যে আটকা পড়েছে। ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানে শক্তিমান হয়ে এগিয়ে যা”েছ শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী।
এরই মধ্যে খবর এসেছে, উ”েছদ হওয়া তামিলদের পুনর্বাসনের নামে ভাভুনিয়া ও মানার জেলায় বেশ কিছু ‘কল্যাণপল্লী’ স’াপন করা হয়েছে। লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ জানা”েছ, এসব গ্রামে ‘যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসা বেসামরিক মানুষজনকে বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হবে’। এটা কি সুন্দর নামের আড়ালে বন্দিশিবির নয়?
শ্রীলঙ্কার একজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মঙ্গলা সামারাভিরা ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেছেন, ‘কয়েক মাস আগে সরকার রাজধানী কলম্বোয় বসবাসকারী সব তামিলের নাম তালিকাবদ্ধ করা শুর” করে। এর পেছনের যুক্তিটি হলো, এদের প্রত্যেকেই সম্ভাব্য সন্ত্রাসী। এই তালিকা অন্য উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হতে পারে, যেমনটা করেছিল হিটলারের কুখ্যাত নাজি বাহিনী। তারা আসলে সমগ্র তামিল জনসাধারণকেই সন্ত্রাসী বলে দাগিয়ে দিতে চায়।’
এই জঘন্য কাজকর্মের ঘোষিত উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার স্বাধীনতাকামী তামিল দল লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমকে (এলটিটিই) নিশ্চিহপ্ত করার কথা বললেও, যে কুৎসিত উপায়ে বেসামরিক জীবন ও ‘সন্ত্রাসী’ দমন করা হ”েছ, তার পরিণতি একটাইঃ তামিল গণহত্যা। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী এখন গণহত্যা চালানোর মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের একটি হিসাবমতে, এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। পঙ্গু হয়েছে আরও কয়েক হাজার মানুষ।
আমাদের চোখের সামনে যা ঘটছে, কিংবা শ্রীলঙ্কায় যা ঘটছে এবং যা জনগণের নজর থেকে লুকিয়ে রাখা হ”েছ, তা প্রবল ও নগ্ন বর্ণবাদী যুদ্ধ। যে রকম দায়মুক্তির সঙ্গে সরকার হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যা”েছ তা আর কিছু নয়, তাদের অসি’মজ্জায় মিশে থাকা বর্ণবাদী অহমিকারই প্রকাশ। তাদের এই ঘৃণার আক্রোশের মুখেই শ্রীলঙ্কার তামিল জনসাধারণ কোণঠাসা ও বি”িছন্ন হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কা রাষ্ট্রের এই বর্ণবাদের ইতিহাস অনেক পুরোনো। এর মাধ্যমে তামিলদের সামাজিকভাবে সংকুচিত করা, অর্থনৈতিকভাবে অবর”দ্ধ রাখা, জাতিগত নিধন ও নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। এ কারণেই তামিলদের প্রথম দিকের শানি-পূর্ণ অহিংস প্রতিবাদ পরিণত হয়েছে দশকের পর দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধে। কেন এই নীরবতা? আরেকটি সাক্ষাৎকারে মঙ্গলা সামারাভিরা বলেছেন, ‘আজকের শ্রীলঙ্কায় কোনো স্বাধীন গণমাধ্যম নেই।’ তিনি ঘাতক বাহিনী এবং সাদা গাড়িতে করে অপহরণের বর্ণনা দেন। এসবের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার সমাজকে ‘নিথর ও সন্ত্রস-’ করে রাখা হয়েছে। যারা প্রতিবাদ করেন, তাঁদের গুমখুন করা হয়েছে। আন-র্জাতিক সাংবাদিক সংস’া অভিযোগ করেছে, শ্রীলঙ্কা সরকার সন্ত্রাস দমন আইন ব্যবহার, গায়েব করে দেওয়া ও গুপ্তহত্যার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠ নিস-ব্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় সরকার শ্রীলঙ্কা সরকারের সমর্থনে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কারিগরি সহায়তা দি”েছ। এটা সত্য হলে এর থেকে ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না। অন্য দেশগুলোর সরকার কী করছে? চীন? পাকিস-ান? পরিসি’তি আরও খারাপ দিকে নিতে বা ভালো করতে তারা কি কিছু করছে?
শ্রীলঙ্কার তামিলদের ভয়াবহ দুর্দশার প্রতিবাদে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ১০ জনেরও বেশি তামিল আগুনে আত্মাহুতি দিয়েছেন। জনগণের ক্রোধ ও হতাশা এখানে নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে। কিন– খুবই অস্বাভাবিক যে, ভারতের অন্য প্রদেশগুলোয় এ নিয়ে কোনো উ”চবাচ্য নেই। কী বিস্নয়কর এই নীরবতা!
শ্রীলঙ্কায় যত বড়মাপের বিপর্যয় ঘটছে, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকার কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। বিশেষ করে এ কারণেও যে ভারত সরকার তামিল সমস্যায় দীর্ঘদিন দায়িত্বহীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নাক গলানোর বাজে উদাহরণ সৃষ্টি করে রেখেছে। একবার তারা সরকারের পক্ষ নিয়েছে আরেকবার থেকেছে তামিলদের পক্ষে। আমাদের মতো যাদের আরো আগেই এ নিয়েসো”চার হওয়া উচিত ছিল, তারা তা করতে পারেনি নিছক যুদ্ধ নিয়ে কোনো রকম তথ্য না পাওয়ার জন্য।
তাই একদিকে যখন হত্যাযজ্ঞ ঘটে চলেছে, যখন লাখ লাখ মানুষকে বন্দিশিবিরের কাঁটাতারের ঘেরাটোপের মধ্যে পুরে ফেলা হয়েছে, যখন দুই লাখ তামিল অনাহারের শিকার এবং যখন একটি গণহত্যা ঘটতে যা”েছ, তখন আমাদের এই মহান ভারত চেয়ে চেয়ে দেখছে। তামিলদের ওপর মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশ্বের উচিত সেখানে হস-ক্ষেপ করা। এবং তা এখনই, অনেক বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই।
সূত্রঃ প্রথম আলো
অর”ন্ধতী রায়ঃ বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় ঔপন্যাসিক।
রয়টার্সে নন্দিতা দাসের সাক্ষাতকার April 2nd, 2009

‘আর্টহাউস’ সিনেমা বা তথাকথিত শিল্পসম্মত মুভিতে বিতর্কিত চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পাবার পর ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ধর্মীয় দাঙ্গা নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালনা করেই আবারো সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি বলিউড অভিনেত্রী নন্দিতা দাস।
তিন বছর সময় নিয়ে ছবিটির তিনি এর পাণ্ডুলিপি লিখেছেন। বিশ্বের বেশ কয়েকটি চলচিত্র উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কার জয়ের পর এ মাসেই মুক্তি পেয়েছে নন্দিতা দাস পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ফিরাক’। ২০০২ সালে ভারতের গুজরাটে একটি ট্রেনে আগুন লেগে ৫৯ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী মারা যাওয়ার পর সংঘঠিত হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় আড়াই হাজারেরও বেশি মুসলমানকে হত্যা করা হয়। দাঙ্গার সময় একটি পরিবারের ২৪ ঘণ্টার বিবরণের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। বিষয়টি নিয়ে ৩৯ বছরের নন্দিতা দাসের সঙ্গে কথা বলেছেন রয়টার্সের প্রতিবেদক টনি থ্যারাকান।
নন্দিতার কাছে টনির প্রথম প্রশ্নটি ছিল, ফিরাককে দিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করার পরিকল্পনা কি আপনার আগে থেকেই ছিল? উত্তরে নন্দিতা বলেন, না। আসলে ব্যাপারটি তেমন নয়। আমি গত কয়েক বছর ধরেই চলচ্চিত্র পরিচালনার কথা ভাবছিলাম। ভাবিনি ফিরাক আমার পরিচালিত প্রথম ছবি হবে। আসলে ছবিটি আমি পরিচালনা করেছি কারণ এর গল্পই আমাকে নাড়া দিয়েছে এবং আমাকে পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমার মনে হয়েছে আমার চারপাশে যা ঘটছে তা নিয়ে আমার কিছু করা উচিত। সমাজের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের বিরুদ্ধে এটা আমার প্রতিক্রিয়া বলতে পারেন।
দ্বিতীয় প্রশ্নটি করা হয়, ছবিটি তো গুজরাট রায়ট নিয়ে নির্মিত? নন্দিতা বললেন, ছবিটি গুজরাটেই চিত্রায়িত হয়েছে। তবে রায়ট চলাকালীন নয়। রায়টের কয়েক মাস পরে। তাছাড়া ছবিতেও কোনো সংঘাত নেই। এখানে শুধু দেখানো হয়েছে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কিভাবে ৫টি সম্পর্ক প্রকাশিত হয়ে যায়। টনি জানতে চাইলেন, সংঘাত নিয়ে নির্মিত ছবিতে সংঘাত দেখানো হচ্ছেনা। ব্যাপারটি অদ্ভূত নয়কি? নন্দিতা বলেন, ছবিটি দেখে অনেকইে মন্তব্য করেছেন, এখানে কোন সংঘাত না থাকা সত্ত্বেও ভয়, চিন্তা ঠিকই অনুভব করা যায়। ঘরের বাইরে যে সংঘাত চলছে, মানুষের জীবনে যে সংঘাত চলছে তা অনুভব করা যায়। আমি আসলে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়েছি, মানুষের মনে ও সম্পর্কে কী ধরণের পরিবর্তন হয়, এবং সংঘাত আমাদের কিভাবে প্রভাবিত করে তার ওপর।
ফিরাককে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতমূলক বলে সমালোচনা করা হয়েছে। এ সম্পর্কে নন্দিতার অভিমত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিপরীত কথা বলছে এমন হাজার হাজার ই-মেইল এবং ম্যাসেজ আমার কাছে আছে। অনেকেই বলেছে, তাদের মনে এটি পুরোপুরি মানবিক গল্প। অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিল পেয়েছেন এখানে। তবে হ্যাঁ। অনেকই এটাকে একপক্ষীয় গল্প বলেছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই। বাস্তবই তো একপক্ষীয়। আমরা সবাই জানি যে, দাঙ্গায় মুসলিমরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বাস্তব তো আর আমরা বদলে দিতে পারি না।
ফিরাকের মত একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করাটা কঠিন মনে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নন্দিতা বলেন, আসলে ছবিটি আমার কাছে ছিল ক্যাথারসিসের (আবেগের অবমুক্তি) মত। এর মাধ্যমে আমি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পেরেছি। আর এ কারণেই ছবিটি নির্মাণ আমার জন্য কঠিন ছিল। এরপর টনি জানতে চান, ফিরাকে অভিনয় করার পরিকল্পনা নন্দিতার ছিল কিনা। উত্তরে নন্দিতা বলেন, শুরুতে এমন পরিকল্পনা ছিল না। কারণ আমার মনে হয়েছে একই সময়ে ক্যামেরার সামনে ও পেছনে থাকা কঠিন। কিন্তু পরে দেখলাম এ ধরনের চরিত্রে কেউ অভিনয় করতে সাহস করছেন না।
আর সবাই বলছিলেন, আমারই এখানে অভিনয় করা উচিত। কিন্তু আমি তা করিনি। কারণ অন্তত প্রথম ছবিতে পুরোপুরি ভাবে পরিচালনায় মনোনিবেশ করা উচিত। নন্দিতার কাছে জানতে চাওয়া হল, এরপর কী? অভিনয় নাকি পরিচালনা। নন্দিতার উত্তর হল, আমি অভিনয় করার জন্য ইতোমধ্যেই একটি প্রজেক্টে স্বাক্ষর করেছি। তবে ভবিষ্যতে আরো চলচ্চিত্র পরিচালনা করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু এখন আমার নিজের জন্য কিছুদিন বিশ্রাম দরকার।
রবিশঙ্কর April 2nd, 2009

বিপদেই বন্ধুর পরিচয়। আর বিপদে যে এগিয়ে আসে সেই তো পরম বন্ধু। একাত্তরে বাংলাদেশ তথা আমরা অনেককেই বন্ধু হিসেবে পাশে পেয়েছি। আজও নামগুলো আমাদের মনে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবতাবাদী মানুষ আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনেক আগে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একা্ততা পোষণ করেছিলেন। শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সংগঠন নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে দ্বিধা করেনি। তেমনি একটি উদ্যোগ ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আগস্টে অনুষ্ঠিত হয় এই কনসার্ট। এখন এটি ইতিহাসের অংশ। এ কনসার্টে ‘বাংলাদেশ’ গানটি গেয়ে কোটি বাঙালির প্রাণের স্বজন হয়ে ওঠেন জর্জ হ্যারিসন। পৃথিবী বিখ্যাত এ পপ তারকার প্রতি আজও তাই একইরকম প্রেম অনুভব করে বাংলাদেশ। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণকারী জাদুঘর থেকে শুরু করে বই, পোস্টার, সিডি এমনকি তারুণ্যের প্রিয় পছন্দ হয়ে গায়ের টি-শার্টে স্থান করে নিয়েছেন কাঁচা-পাকা চুল আর দাড়ি ঢাকা মুখের হ্যারিসন।
আর যিনি বিস্মৃতির অতলে কেবলই হারিয়ে চলেছেন তিনি রবিশঙ্কর। পণ্ডিত রবিশঙ্কর। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সেতারের এ কিংবদন্তির ভূমিকার কথা যেন মনে করতে পারছে না নতুন প্রজন্ম। জর্জ হ্যারিসনকে মানুষ যতটুকু চেনে, রবিশঙ্কর যেন ততটুকুই তাদের কাছে অচেনা। কিন্তু ১৯৭১ সালে নিজেকে একজন বাঙালি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর। বাঙালি হয়ে তাই বাঙালির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নিজেকে তিনি ভারতীয় [কলকাতার নাগরিক] মনে করেননি। মনে করেছেন বাঙালি। ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও মূল আয়োজক আসলে তিনিই ছিলেন। শুধু অস্ত্র ধরলেই কি যুদ্ধ হয়! হয় না। সেতার দিয়ে আমাদের পক্ষে লড়েছেন রবিশঙ্কর। তার সেতার শুধু এ অঞ্চলে নয়, পাশ্চাত্যেও ঝড় বইয়ে চলেছিল তখন। ফিউশন করতে গিয়ে পৃথিবীর সর্বত্র কাঁপন ধরানো রক গায়কের অনেকেই প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠল রবিশঙ্করের। জর্জ হ্যারিসন ছিলেন তাদেরই একজন। বাংলাদেশ যে তার স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, মুক্তির সংগ্রাম করছে তা রবিশঙ্করই জানান বন্ধু হ্যারিসনকে। সব জানার পর রবিশঙ্করের সঙ্গে একমত হন তিনি। ‘হ্যাঁ, আমাদের কিছু করতে হবে। করতেই হবে। মানবতার পক্ষে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।’ এরপর আয়োজক রবিশঙ্করের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেন জর্জ হ্যারিসন। দু’জনই বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান নিয়ে হাজির হলেন তখনকার বিশ্বকাঁপানো অন্যান্য খ্যাতিমান গায়কদের কাছে। সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউইয়র্কে আয়োজিত হল এই কনসার্ট। রবিশঙ্কর ও আকবর আলী খান উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের। ভারতীয় সঙ্গীতের ধারায় ধুম বাংলা ধুম সুরের তালে তারা শুরু করেন আয়োজন। মানুষের স্রোত নেমেছিল সেই কনসার্টে। সেদিন দর্শকও বাংলাদেশ এবং বাঙালির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কনসার্টে আরও গান করেন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিঙ্গো স্টার, বিলি প্রেস্টন এবং লিওন রাসেলের মতো দুনিয়াব্যাপী সাড়াজাগানো শিল্পীরা। হ্যারিসন এখানেই গাইলেন সেই বিখ্যাত গান ‘বাংলাদেশ’। যথারীতি বিশ্বব্যাপী প্রচার হল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবর। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান পৌঁছে গেল সর্বত্র। কৌশলে ঠিক এটিই চেয়েছিলেন রবিশঙ্কর। নিজের মনোবাসনা পূরণ হয়েছিল সেদিন শঙ্কর সাহেবের। এ কাজটির জন্যই হ্যারিসনকে ডাকেন তিনি। কিন্তু এ ডাক পৌঁছে দিতে নেপথ্যে যে মানুষটি কাজ করে গেলেন তিনি আর সামনে এলেন না। পেছনের সারিতে বসেছিলেন সেতার নিয়ে। আজ বাঙালির স্বাধীনতা প্রাপ্তির এত এত বছর পরও যেন সামনে আসা হল না তার, নাকি বাংলাদেশই পারলো না তাকে সামনে আনতে? একটি প্রশ্ন, একটি বেদনাবোধ আজও এই পরম বন্ধুর জন্য বাঙালির।
সূত্রঃ ইনটারনেট।
