Link inside a youtube video   August 24th, 2009

ইউটিউবের ভিডিও এখন থেকে যেকোনো অংশের লিংক শেয়ার করা যাবে। যেমন ধরুন একটি ভিডিওর কিছু অংশ আপনি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে চান। তখন সেই কাংক্ষিত ভিডিওটির লিংক হবে এই রকম;
http://www.youtube.com/watch?v=WBFIo1u2Qxk#t=02m20s

ইউটিউব url এর সাথে আপনাকে তখন #t=xxmyys এই অংশটি জুড়ে দিতে হবে। এখানে xx = মিনিট এবং yy = সেকেন্ড।

Tags: ,
Posted in Uncategorized | 1 Comment »

এই কার্টুনটি দেখে খুবই মজা পেলাম। গতকাল রস-আলো পত্রিকায় প্রকাশিত।
জ্যাম উপযোগী বাস।



Click the image for larger view.

Google Voice   August 22nd, 2009

I’m a Google friendly. I don’t say this with any embarrassment or anything like that. I’m just acknowledging the facts. I use google for my e-mail, instant messaging, blogging, browser and now for my cell phone service kind of, let me explain.

I recently received my invite to Google Voice and this is so cool! It logs all of my calls online. I can listen to any voice mails online without going through endless menu options! Plus, Google Voice gives me the ability to screen calls and take the call in the middle of someone leaving a message. You can even record your calls! How cool is that? There also doesn’t appear to be a limit on how long they will save your voice mail messages. You don’t even have to have the calls forwarded to your phone if you don’t wish. You can simply use it as a voice mailbox. But i like the call forwarding part the most. You can even pick your desire number with any area code in united states or even a word or a phrase, like mine (609)-616-BLOG (2564).
I think I will be giving out my cell phone number less and less. Thanks to this, the cell will probably be reserved for close friends that I see and talk to a ton. I’m even throwing the Google voice number on my resume, Blog or even in Facebook so I won’t miss any important calls due to cell phone issues.

Tags:
Posted in Uncategorized | No Comments »


গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ এ ভূষিত হলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ, বিশ্বশান্তি, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এ পদক দিয়ে সম্মানিত করে থাকেন।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, “এটি আমি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এদেশ ও অন্য সব দেশের কিছু সর্বোত্তম নাগরিককে ধন্যবাদ জানানোর একটি সুযোগ।
“এমন এক সময়ে যখন প্রায়ই আমাদের মাঝে নৈরাশ্যবাদ ও সংশয় দেখা দেয়, পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা অনেক সময়ই ভুলে যাই, আমাদের সামনে চলার পথটি অনেক দীর্ঘ ও বন্ধুর মনে হয়, তখন এই অসামান্য মানুষগুলো, এই পরিবর্তনের নায়করা আমাদেরকে একথাই স্মরণ করিয়ে দেন যে উৎকর্ষ অর্জন আমাদের সাধ্যের বাইরে নয়। তারা আমাদের আশার বাণী শোনান।
“তারা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে স্বপ্ন পূরণ, অন্যের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের সন্তানদের জন্য এ পৃথিবীকে নতুন করে গড়ে তোলার ক্ষমতা আমাদের প্রত্যেকের মাঝেই রয়েছে।”
এ বছর আরও যারা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ পেলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- দক্ষিন আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং, মার্কিন সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি স্যান্ড্রা ডে ও’কনর, সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, মার্কিন অভিনেতা সিডনি পয়টার, আয়ারল্যান্ডের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসন, ঐতিহাসিক জো মেডিসিন ক্রো প্রমুখ।

Tags: ,
Posted in Uncategorized | No Comments »


দেশের বাইরে থাকি বলে অনলাইনেই পত্র-পত্রিকা পড়তে হয়। আজ প্রথম আলো পড়তে গিয়ে দুই তিনটি লেখায় চোখ ও মন দুই আটঁকে গেল। তাই আর দেরি না করে লেখাগুলি আমার ব্লগের পাঠকদের সাথে ভাগাভাগি করে নিলাম।
যারা লেখাগুলি কষ্ট করে লিখেছেন তাদের জানাই কৃতজ্ঞতা।



বন্ধুত্ব সুস্থ জীবনের জন্য
মুনতাসীর মারুফ

পারসপরিক সমপর্কের বাঁধন ছাড়া মানুষ কখনোই আধুনিক সভ্যতার এই স্তরে পৌঁছাতে পারত না। বর্তমানে হয়তো প্রস্তরযুগের মতো খাবার খুঁজতে বের হওয়ার জন্য বা হিংস্র শ্বাপদের আক্রমণ থেকে জীবন রক্ষা করতে একত্র হওয়ার প্রয়োজন তেমন পড়ে না, কিন্ত- এ যুগেও সুস্থ, সুখী, দীর্ঘ জীবনের জন্য বন্ধুত্বের ভূমিকা অপরিসীম। অভিজ্ঞতা থেকে যেমন আমরা তা বুঝতে পারি, তেমনি বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার মাধ্যমেও এই ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত।
হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার ওপর বন্ধুত্বের প্রভাব রয়েছে। সুইডেনের একদল গবেষক ১৩ হাজার ৬০০ জনের ওপর তিন বছর গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান, যাদের বন্ধুবান্ধব কম বা নেই, তাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ বেশি। নিউইয়র্কের গবেষকেরাও এ বছর প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, বন্ধুহীন ব্যক্তিরা হৃদরোগ, উদ্বেগজনিত রোগ ও বিষণ্নতায় বেশি ভোগে। বন্ধুত্ব কীভাবে হৃদ্‌যন্ত্র বা আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে? উত্তরে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এ বলা হয়েছে, ভালো বন্ধুত্ব মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই মানসিক চাপের সঙ্গে সমপর্ক আছে হৃদরোগের। মানসিক চাপের ফলে রক্তনালির ভেতর প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ে, যা পরবর্তী সময়ে রক্তের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করতে পারে; নালির ভেতর রক্ত জমে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

হামবোল্ট সেটট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী তাশা আর হাউই বলেন, মানুষের ক্রমবিকাশের ধারা বা অভিব্যক্তিবাদেই রয়েছে এর উত্তর। মানুষ সামাজিক জীব। তাদের জন্মই হয়েছে সমাজবদ্ধ হিসেবে বাস করার জন্য। আর তাই সামাজিক বন্ধন দৃঢ়, এমন ব্যক্তিরা অন্যদের চেয়ে বেশি মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন। ফলে তাদের হৃদরোগ কম হয়, রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা বেশি থাকে এবং চাপসঞ্চারী হরমোন কর্টিসোলের পরিমাণ দেহে কম থাকে। পিটসবার্গের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শেলডন কোহেন বলেন, জীবনের কষ্টকর সময়গুলো মোকাবিলা করতে বন্ধু সহায়তা করে।
তারা চাপ মোকাবিলার জন্য মানসিক অবলম্বন হিসেবে দুঃসময়ে পাশে থাকে। যাদের সামাজিক যোগাযোগ বেশি, তারা অধিকতর আত্মবিশ্বাসী হয় এবং জীবন ও পরিবেশের ওপর নিজেদের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ অনুভব করে। বন্ধুত্ব স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণকেও উৎসাহিত করে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সুখ সংক্রামক।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা বলেছেন, সুখ ব্যাপারটি সংক্রামক ভাইরাসের মতোই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়ায়। সুতরাং আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু যদি সুখী হয়, সে ক্ষেত্রে আপনারও সুখী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অপরদিকে সমাজবিচ্ছিন্ন, বান্ধবহীন জীবন একই সঙ্গে অসুস্থ ও অসুখীও। বয়সী একাকী ব্যক্তিরা উচ্চ রক্তচাপ ও নিদ্রাহীনতায় বেশি ভোগেন। অস্থিরতা ও উদ্বেগে আক্রান্ত হন। তাঁদের দেহে সেট্রস হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকে। রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা থাকে কম।
হার্ট অ্যাটাকের পর দ্রুত মৃত্যুর ঝুঁকি তাঁদের ক্ষেত্রে বেশি। শিকাগোর রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকেরা দেখেছেন, একাকিত্বে ভোগা ব্যক্তিদের স্নৃতিভ্রংশ রোগ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। ২০০৬ সালে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত তিন হাজার সেবিকার ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ বন্ধুহীন রোগীদের ক্যানসারে মারা যাওয়ার ঝুঁকি, যাদের দশের অধিক বন্ধু আছে তাদের চেয়ে চার গুণ বেশি। একইভাবে, জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ওপর চালানো অন্য গবেষণায় প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। বন্ধুত্বের যেসব উপকারিতার কথা বলা হচ্ছে, অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সেগুলো ভালো বন্ধুত্বের ফল।
বিপথগামী বন্ধুরা অবশ্যই আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। যারা অনিয়ন্ত্রিত ও অসুস্থ জীবনাচরণে অভ্যস্ত, তারা আপনাকেও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপনের পথে নিয়ে যেতে পারে। আপনি হয়ে পড়তে পারেন ধূমপায়ী, মাদকাসক্ত, শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই সুস্থ, দীর্ঘ জীবনের জন্য খুঁজে নিন প্রাণবন্ত, সুখী, পরোপকারী, বিশ্বস্ত, ভালো বন্ধু; গড়ে তুলুন নির্মল বন্ধুত্ব।


দেশের বাইরে থাকি বলে অনলাইনেই পত্র-পত্রিকা পড়তে হয়। আজ প্রথম আলো পড়তে গিয়ে দুই তিনটি লেখায় চোখ ও মন দুই আটঁকে গেল। তাই আর দেরি না করে লেখাগুলি আমার ব্লগের পাঠকদের সাথে ভাগাভাগি করে নিলাম।
যারা লেখাগুলি কষ্ট করে লিখেছেন তাদের জানাই কৃতজ্ঞতা।



খিচুড়ি – খিচুড়ি খাবেন, খিচুড়ি!
আশীষ-উর-রহমান


বৃষ্টি নামলে কী মনে পড়ে? শৈশবের স্নৃতি, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, মনের সুখে ভেজা, রবীন্দ্রনাথের গান, কালিদাসের মেঘদূত, কদম-কেয়ার সৌরভ-আর কিছু নয়? খিচুড়ির কথা ভুলে গেলেন! তার সঙ্গে চাই ইলিশ ভাজা। হ্যাঁ, এবার জমল বাঙালির বৃষ্টি। বর্ষা মৌসুম চলছে। বৃষ্টিও ইদানীং হচ্ছে এবেলা-ওবেলা। এমন মেঘমেদুর দিনের কোনো এক বেলায় খিচুড়ির হাঁড়িতে উত্তাপ দেয়নি এমন উনুন বোধহয় নেই কোনো নাগরিক রান্নাঘরে।
নামেই পরিচয়ঃ ‘খিচুড়ি’ নামের মধ্যেই আছে খিচুড়ির বৈশিষ্ট্য। অভিধান বলছে, খিচুড়ি অর্থ ‘বৈসাদৃশ্যময় উপকরণে তৈরি মিশ্র খাদ্য।’ তাই বলে যার সঙ্গে তা মিশিয়ে কিছু একটা করলেই খিচুড়ি হয়ে যাবে, এমন ভাবা ঠিক নয়। খিচুড়ি করতে হলে চালের সঙ্গে ডাল মেশাতে হবেই। মসুর, মুগ, ছোলা, অড়হর যা ইচ্ছা। এক বা একাধিক। ডাল না মেশালে খিচুড়ি হবে না। অন্তত বাঙালির খিচুড়ি। এরপর সবজি থেকে মাছ, মাংস, বাদাম, কিসমিস, তেল, ঘি, নুন, লঙ্কা, হলুদ-যার যেমন রুচি মেশাতে পারেন সাধ ও সাধ্যমতো। খিচুড়ি পুষ্টিকর, বলবর্ধক। চিকিৎসকেরা এ জন্যই এখন শক্ত খাবার আয়ত্ত করা শিখলেই শিশুদের খিচুড়ি খাওয়াতে দরাজ পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। এ ছাড়া নানা ধরনের ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান যেমন, মিলাদের তবারক বা পূজার প্রসাদ হিসেবে এবং কাঙালিভোজে খিচুড়ি বিতরণের ঐতিহ্য প্রসিদ্ধি অর্জন করেছে যথেষ্ট।
আদ্দিকালের কথাঃ খিচুড়ি রান্না হয় ভারতীয় উপমহাদেশজুড়েই। কিন্ত- কবে থেকে রান্না হচ্ছে, তা নির্ণয় করা কালিদাসের কাল নির্ণয় করার চেয়েও দুরূহ। আলবেরুনী ভারততত্ত্বে খিচুড়ি প্রসঙ্গ বাদ দিতে পারেননি। তিনি দেখেছিলেন, উত্তর ভারতে খিচুড়ি খুবই জনপ্রিয়। বঙ্গে এলেও এর ব্যতিক্রম পেতেন না অবশ্যই। মনসামঙ্গল-এ আছে শিব পার্বতীকে ডাবের জল দিয়ে মুগডালের খিচুড়ি রান্নার ফরমায়েশ দিচ্ছেন। অন্যত্র আছে, ‘আদা কাসন্দা দিয়া করিবা খিচুড়ি’। মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগের। আরও প্রাচীনত্বের তত্ত্ব-তালাশ করতে গেলে কিন্ত- খিচুড়ির দেখা মিলবে না। এর কারণ, ডালের অনুপস্থিতি। নীহাররঞ্জন রায় তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন, ‘প্রাচীন বাঙালীর খাদ্য তালিকায় ডালের উল্লেখ কোথাও দেখিতেছি না।’ ডাল না থাকলে ডালেচালে মেশানো খিচুড়ি হবে কী করে?
খিচুড়ির ডালঃ আমাদের খাদ্যতালিকায় ডালের সংযোগ মধ্যযুগে। অতএব তখন থেকেই খিচুড়ির আবির্ভাব। সেটা ১২০০ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যেই কোনো এক সময়ে হবে। ডাল ভারতীয় শস্য নয়। ডালের আদি ঠিকানা মূলত মধ্যপ্রাচ্য। সেখান থেকে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তান দিয়ে উত্তর ভারতে, অতঃপর বঙ্গে ডালের প্রবেশ। হালে ডাল গরিবের আমিষ বলে খ্যাত হলেও প্রথম দিকে ডাল ছিল উচ্চশ্রেণীর খাদ্য। নীহাররঞ্জন রায় বলেছেন, উচ্চকোটির লোকেরাই তখন আহারের শেষ পর্বে ডালের স্বাদ আস্বাদন করতেন। সে সময় মাছ ইত্যাদি সহজলভ্য ও সুপ্রচুর থাকায় গরিবকে আমিষের জন্য ডালের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হতো না। এখন মাছ-মাংস গরিবের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ায় ডালকে তাদের আমিষ বলে খেতাব দেওয়া হলেও ভাতের সঙ্গে ডাল জোটানোও সহজ নয়। ডালও অগ্নিমূল্য। ডাল সমপর্কে সানাউল হক তাঁর খাদ্য ভুবন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আমাদের এখানে গড়ে মাথাপিছু ডালের ব্যবহার মাত্র ১০ গ্রাম, ভারতে এর ব্যবহার ৫০ গ্রামের বেশি।
খিচুড়ি পাকানোঃ যত সহজে ‘খিচুড়ি পাকানো’র কথা মুখে বলা হয়, বাস্তবে তত সহজ নয়। খিচুড়ি হতে পারে দুই রকমের-নরম অথবা ঝরঝরে ভুনা। তবে মিষ্টি খিচুড়ি বলে ভূ-ভারতে কোনো খিচুড়ির অস্তিত্ব নেই। ডালের মতো ঝালও খিচুড়িতে অপরিত্যাজ্য। ঝাল-নুনের মাত্রা ঠিক না রাখতে পারলে খিচুড়ির স্বাদই বরবাদ। আবার ভুনা খিচুড়ি যদি হয় নরম, আর নরম খিচুড়ির চাল-ডাল পুরো সেদ্ধ না হয়, তাহলে তা হবে নামেই খিচুড়ি। উপরন্ত- ঠিক থাকা চাই খিচুড়ির রং। এমন সুস্বাদু খাদ্যের সমঝদারের অভাব হবে না এটাই স্বাভাবিক। স্বনামখ্যাত সাহিত্যিক শংকর তাঁর বাঙালির খাওয়াদাওয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, খোদ আকবর দি গ্রেটও মাঝেমধ্যেই খিচুড়ির স্বাদে পরিতৃপ্তি বোধ করতেন এবং তদীয় পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীরেরও খুবই প্রিয় ছিল খিচুড়ি। তাঁর নাকি পছন্দ ছিল গুজরাটি খিচুড়ি। গুজরাটে এই খিচুড়ির নাম ‘লাজিজাঁ’।
জগাখিচুড়িঃ কোনো কিছু তালগোল পাকিয়ে গেলে আমরা বলি ‘জগাখিচুড়ি’। তবে বাস্তবে জগাখিচুড়ি বলে আছে এক রকমের খিচুড়ি। পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরে প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের নিত্যদিন খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। ‘জগন্নাথ দেবের খিচুড়ি’ লোকমুখে সংক্ষেপে হয়েছে ‘জগাখিচুড়ি’ (দেখুন বঙ্গীয় শব্দকোষঃ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়)। আর আমাদের কথ্যরীতিতে তা পরিণত হয়েছে তালগোল পাকানোর প্রতিশব্দ হিসেবে।
খিচুড়ির সঙ্গীঃ বাঙালির খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশ ভাজা গাঁটছড়া বাঁধা। অপ্রাপ্তি বা দুর্মূল্যের কারণে ইদানীং সে বন্ধনে ছেদ ঘটে কখনো কখনো। তাই বলে খিচুড়ি একেবারে সঙ্গীবিহীন নয়। তাকে সঙ্গ দিতে আছে কষা মাংস, টিকিয়া, চিংড়ির দোপেঁয়াজা, বেগুন বা পটল ভাজা, আলুর দম, পাঁপড় ভাজা, বেসন দিয়ে সবজি বড়া, আর ডিম ভাজা। আর দোপেঁয়াজার সঙ্গে আচার তো আছেই অগত্যার সম্বল হিসেবে। যদি এসবের কিছুই না জোটে তাতেও অসুবিধা নেই। এক টুকরো পেঁয়াজ পেলেই খিচুড়ির নিঃসঙ্গতা ঘুচে গিয়ে হয়ে ওঠে উপাদেয়। এটিই বোধহয় তার সব থেকে বড় মাহাত্ম্য।
খিচুড়ির খবরঃ বাড়ির খিচুড়ির স্বাদ হোটেলের খিচুড়িতে মিলবে না, এতে বিতর্কের অবকাশ নেই। তাই বলে হোটেলের খিচুড়িও বিস্বাদ নয়। আমাদের এই ঢাকা শহরে বেশ কিছু হোটেল আছে, যার খিচুড়ির খ্যাতি ভোজনরসিকদের কাছে সুবিদিত। হোটেলে সবজি-খিচুড়ির আশা করা বৃথা। সেখানে পরিবেশন করা হয় খাসি ও মুরগির ভুনা খিচুড়ি। শুধু বর্ষা নয়, সারা বছরই খিচুড়ি সরবরাহ করা হয় এমন হোটেলের মধ্যে প্রথমেই নাম আসে মতিঝিলের ‘ঘরোয়া’র। এখানে প্রতি প্লেট খিচুড়ি ১০০ টাকা। সঙ্গে ইলিশ ভাজা বা সর্ষে ইলিশ নিলে বাড়তি খরচ পড়বে ৮০ টাকা। মতিঝিলের ‘ক্যাফে হীরাঝিল’ খিচুড়ির প্লেট ৮৫ টাকা। সঙ্গে ইলিশ ভাজা ১০০ টাকা। লালমাটিয়ায় ‘স্বাদ’ নামের একটি রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে সমপ্রতি। এখানেও পাওয়া যাবে ভুনা খিচুড়ি। তারকা হোটেলের মধ্যে পূর্বাণীতে ভুনা খিচুড়ি থাকে নিয়মিতই। এখানে খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশ, রুই, পাঙ্গাশ ভাজা, গরুর কষা মাংস, সবজি ও মিষ্টান্নসমেত জনপ্রতি ভোজনের খরচ পড়বে ১১০০ টাকা। বিনা পয়সার সবজি-খিচুড়ি প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় বিতরণ করা হয় রামকৃষ্ণ মিশন মঠে। অধ্যক্ষ নিরঞ্জন মহারাজ জানালেন, শুক্রবার সান্ধ্য প্রার্থনার পর ভক্তদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমেও প্রতিদিন দুপুরে বিতরণ করা হয় সবজি-খিচুড়ির প্রসাদ। ভুনা ও সবজি-সমূল্য ও বিনামূল্য উভয় প্রকারের খিচুড়ির সন্ধানই পাওয়া গেল। কিন্ত- কোনো প্রবল বৃষ্টির রাতে ঘুম ভেঙে গেলে যদি খিচুড়ি খেতে সাধ জাগে, তখন কী হবে? উপায় আছে। রাত যতই হোক, বেরিয়ে পড়ুন। নিজের গাড়ি থাকলে তো কথাই নেই। বঙ্গবাজার পার হয়ে ফুলবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের পাশ দিয়ে সোজা চলে যান নাজিরাবাজার চৌরাস্তায়। খোলা পাবেন ‘মেহেদী হোটেল’। হোটেলের তেমন নামডাক নেই বটে কিন্ত- খিচুড়ির কদর আছে মহল্লায়। জানালেন ওই হোটেলের মালিক জসিমউদ্দিন। গরম ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে কখনো কখনো ইলিশ ভাজাও মিলবে। দাম খিচুড়ি ৪০, ইলিশ ৩৫ টাকা। হোটেল খোলা থাকে ২৪ ঘন্টা। রাত ১০টা থেকে খিচুড়ি পরিবেশন করা হয় পরদিন সকাল ১০টা নাগাদ। তো শুধু কথায় কি আর খিচুড়ির স্বাদ মিলবে। স্বাদ পেতে হলে মুখে তুলতে হবে। এবার তবে সে ব্যবস্থাই করুন।

Tags: , ,
Posted in Uncategorized | No Comments »
Have you ever encountered an issue in which the files in your Windows OS just won’t go away? No matter how many times you try to delete or drag it to recycle bin, restart your computer, or even pull your hair off trying to get rid of those stubborn files, the message always come back the same “access denied”, “file in use”, or something like that.
Solution:
Use any of the above applications. I just couldn’t decide which one to pick for this post, so I decided to post them all at once.
Tags: , , , ,
Posted in Uncategorized | No Comments »