একুশের বই মেলা ২০০৯ টুকিটাকি ১০ February 13th, 2009

শহীদ কাদরীর ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’
চলতি বইমেলায় কবিতাপ্রেমীদের জন্য ঘটেছে অসাধারণ ঘটনা। দীর্ঘ একত্রিশ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন বাংলা কবিতার ক্ষণজন্মা পুরুষ শহীদ কাদরী। এই কবির মরমীয়া রক্তক্ষরণে একদা লেখা হয়েছিল, বন্য শূকর খুঁজে পাবে প্রিয় কাদা/ মাছরাঙা পাবে অস্বেষণের মাছ/ কালো রাতগুলো বৃষ্টিতে হবে শাদা/ ঘন জঙ্গলে ময়ূর দেখাবে নাচ/ প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিকই, কিন্তু শান্তি পাবে না/ পাবে না পাবে না পাবে না, কিংবা বুকের ভেতর এক শ ফানুস উড়িয়ে প্রিয় দেশকে অভিবাদন জানিয়ে একদিন বলেছিলেন, তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা। সাহিত্যাঙ্গন ছেড়ে শহীদ কাদরীর এই চলে যাওয়া ছিল বড়ই আকস্মিক। কোনরকম পূর্বসংকেত ছাড়াই একদিন আচমকা লেখা থামিয়ে দেন এই কবি। দেশ ছেড়ে চলে যান দূর মার্কিন মুল্লুকে। হয়তো এরকমই হয়। খুব বেশি ভালবাসে বলেই হয়তো কবিদের চলে যেতে হয় প্রবাসে। আমরা অপেক্ষায় থেকেছি অনেকদিন। মুখ ফুটে কিছু বলিনি কবিকে। আজ আমাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। মেলায় এসেছে ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ শিরোনামে তার চতুর্থ কবিতার বই। তার নতুন এই কাব্যগ্রন্থে কি আছে? আছে তার কাব্যশক্তির ধারাবাহিক প্রয়াস। আর কি আছে? আছে ঘাসের ফাঁক থেকে মুদ্রার মতো কুড়িয়ে আনা জ্যোস্না। আর যা আছে তা পাঠকদের কাছে কাব্যগ্রন্থ পৌঁছার পর তারাই আবিষ্কার করে নিবেন।
বাংলা ভাষার অন্যতম এ কবির কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদ এঁকেছেন কাইয়ূম চৌধুরী, মূল্য রাখা হয়েছে এক শত টাকা।
‘তোমার শরীরে হাত আকাশ নীলিমা স্পর্শ করে /ভূমণ্ডল ছেয়ে যায় মধ্যরাতে বৃষ্টির মতন/ মুহূর্তে মিলায় দুঃখ, দুঃখ আমাকে মিলায়/ জলের অতল থেকে জেগে ওঠে মগ্ন চরাচর/ দেশ হয় দেশ, নদী হয় পুনর্বার নদী/ নৈঃশব্দে নিপুণ হাতে করতালি দেয়।’
কবিতার লাইনগুলো কবি মহাদেব সাহার প্রেম ও বিরহের কবিতার বইয়ের ‘স্পর্শ’ কবিতার। বইটি এ বছর অমর একুশের বইমেলায় এনেছে একুশে বাংলা প্রকাশন। মহাদেব সাহা ছাড়াও নির্মলেন্দু গুণ, কবি আল মাহমুদ, কবি সৈয়দ শামসুল হক, মুহম্মদ হবিবুর রহমান, আসাদ চৌধুরী, আনিসুল হক, মুজিব মেহেদী, মাহবুব কবির, শামীম রেজাসহ অনেক নবীন-প্রবীণ কবিদের কবিতার বই এ বছর মেলায় এসেছে। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজর”ল ইসলাম, জীবনানন্দ দাস, জসীমউদ্দীন, হেলাল হাফিজ, সিকান্দার আবু জাফর, র”দ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সুকান্ত ভট্টাচার্যসহ দেশী-বিদেশী বিখ্যাত কবিদের কবিতার বইও বিভিন্ন স্টলে শোভা পা”েছ। এসব কবিদের লেখা বইয়ে প্রেম, বিরহ, ভালোবাসা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশের কবিতা, রম্য কবিতাসহ নানা ধরনের কবিতা রয়েছে। এ পর্যন্ত মেলায় আসা বইয়ের মধ্যে কবিতার বই সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২১৮টি এসেছে। যে পরিমাণ কবিতার বই এসেছে সেই তুলনায় বিক্রি হ”েছ না। গতকাল মেলায় মোট ৮৯টি বই এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২০টি রয়েছে কবিতার বই।
প্রতিদিনের মতো গতকাল বিকালে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় প্রবেশের পথে তেমন ভিড় নেই। যে পরিমাণ লোক আসছেন তারা অনায়াসেই প্রবেশ করতে পারছেন। মেলার মধ্যে ঢুকে দেখা গেলো প্রতিটি স্টলেই বইপ্রেমীদের ভিড়। বইয়ের বিক্রিও গতকাল ভালো হয়েছে বলে প্রকাশকরা জানান। মেলায় ঢুকেই স্টলগুলোতে ঘুরে কবিতার বইয়ের সন্ধানে বের হই। বেশিরভাগ স্টলেই কবিতার বই রয়েছে। তবে বইয়ের সংখ্যা খুবই কম। ভালো কবিতার বইয়ের সংখ্যাও হাতেগোনা । ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশে সৈয়দ শামসুল হকের ‘ধ্বংসসতূপে কবি ও নগর’, রফিক আজাদের ‘অন্তরঙ্গ দীর্ঘশ্বাস’, আসাদ চৌধুরীর ‘বাতাস যেমন পরিচিত’, নবীন কবি তৌহিদুর রহমানের ‘উপহার, তোমার জন্য’, ওমর আলীর ‘স্বাধীনতার কবিতা’, চন্দন চৌধুরী সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’, আগামী প্রকাশনীতে আবিদ আনোয়ারের ‘আটকে আছি মধ্য নীলিমায়’, অয়ন প্রকাশনে মাহবুব হাসানের ‘নির্বাচিত কবিতা’, লেখালেখিতে নির্মলেন্দুগুণের ‘একুশের একুশ কবিতা’, অংকুর প্রকাশনীতে মাহমুদা নূপুরের ‘শব্দের তাঁবু’, হামিদুল হক হিরোর ‘হাজার বছরের প্রশ্ন’, একুশে বাংলা প্রকাশনে মহাদেব সাহার ‘প্রেম ও বিরহের কবিতা’, আকাশ প্রকাশনে জিয়া মাসুদের ‘চৌদ্দ কথা’, জ্যোতি প্রকাশে কে জি মোস্তফার ‘মোর প্রিয়া হবে এস রানী’, মোস্তাফা জাহাঙ্গীর আলম সম্পাদিত কবিতার বই ‘ভোরের শিশিরে গ্রীন হাউজের বন্দিনী’, ‘পাগলা গারদ’, প্রতিশ্র”তি প্রকাশনীতে বরকত আজিজ ধ্র”ব ও এ কে এম শোয়েব সম্পাদিত নির্বাচিত কবিতার ‘বই কণ্ঠ’, ও মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের ‘চন্দ্রবীক্ষণ ও নগ্নপদ’ কবিতার বই পাওয়া যা”েছ।
একুশে বাংলা প্রকাশনের পরিচালক আলমগীর জানান, কবিতার বইয়ের খুব বেশি পাঠক নেই। তারপরেও ভালো কবিদের বই হলে ভালোই কাটতি হয়। এ বছর আমাদের স্টলে মহাদেব সাহার প্রেম ও বিরহের কবিতার বেশ কাটতি রয়েছে।
প্রতিশ্র”তি প্রকাশনীর সাহিদুর রহমান ও মোঃ কবির হোসেন জানান, আমাদের স্টলে আবৃত্তির জন্য নির্বাচিত কবিতা কণ্ঠ বেশ চলছে। প্রতিদিনই এ বইটি বিক্রি হ”েছ।
মেলায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের ছাত্র মোঃ জালাল উদ্দিন ও মোঃ মাসুদ পারভেজ জানান, আমরা প্রতি বছরই মেলায় আসি। স্টলে স্টলে ঘুরে বই দেখি। উপন্যাসই বেশি চলছে। তারা বলেন, কবিতার বইয়ের সংখ্যা অনেক থাকলেও সেগুলোর মান খুব ভালো নয়। ভালো কবিদের কবিতার বইয়ের সবসময়ই কদর থাকে। নবীন কবিদের কবিতা লেখার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকতে হবে।
একুশের বই মেলা ২০০৯ টুকিটাকি ০৯ February 12th, 2009

বইমেলা একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। লেখক-পাঠক-প্রকাশক-মুদ্রক, বাঁধাইকার লাখ লাখ মানুষ মাসব্যাপী এই উৎসবে প্রত্যক্ষভাবে শরীক হচ্ছেন। আমাদের সংস্কৃতির যে জয়যাত্রা এই মহান একুশে উপলক্ষেই সূচিত ও বিকশিত হয়ে চলেছে।
একুশের বই মেলা ২০০৯ টুকিটাকি ০৮ February 11th, 2009

ওরা ক্ষুদে পাঠক। জাতির আগামী। নবপ্রস্ফুটিত ‘বই’ নামক ফুল যে সুবাস ছড়িয়েছে, তার সুঘ্রাণে ওরা মাতোয়ারা তো হবেই। জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমী তাদের জন্যই শুক্রবারের দিনের প্রথম অংশ নির্দিষ্ট করে রেখেছে! তাই তো ওরাও বঞ্চিত করেনি। নির্দিষ্ট শিশুপ্রহরেই অতিথির সমাগম। সেই প্রহরে একাডেমীর সমৃদ্ধ সবুজ অঙ্গন জাতির ভবিষ্যতের পদভারেই প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছিল।
পহেলা ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মহান ভাষাসৈনিকদের স্মরণে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা। প্রতিদিনই মেলায় পাঠক-ক্রেতা আসছেন। বই দেখছেন, কিনছেনও। সঙ্গে শিশুরা এসেছে। শিশুদের বই কেনার প্রতি আগ্রহী করতে হবে। বাড়াতে হবে পাঠক। গড়তে হবে আলোকিত আগামী। বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট এ বিশেষ সময়টির নাম দিয়েছে ‘শিশুপ্রহর’। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ছিল ওই প্রহর। শুক্রবার বাবা-মা কিংবা বড়দের আঙুল ধরে কিংবা ঘাড়ে ও কোলে বসে এসেছিল হাজার হাজার শিশু-কিশোর। তারা দাপিয়ে বেড়িয়েছে মেলাঙ্গন। স্টলে স্টলে ছুটে ফিরেছে পছন্দের বইয়ের খোঁজে।
চার বছরের শিশু তন্বী এসেছিল ধানমণ্ডি থেকে বাবা খোরশিদ আলম ও মা সৈয়দা লুৎফে আরার সঙ্গে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বর্ধমান হাউসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ঐতিহ্য প্রকাশনীতে লুৎফে আরা ‘রঙিন ফুল’ বইটি নেড়ে দেখছিলেন। মাটিতে দাঁড়ানো তন্বীর ‘বিলম্ব’ সইছিল না। সে বারবার পা তুলে হাত বাড়িয়ে বই টানছিল নিজের দিকে। দৃশ্যটি দেখে বাবা খোরশিদ আলম তাকে কোলে তুলে নিলেন বইয়ের সমান্তরালে।
পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে দশম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লিজা। সকাল ১০টার দিকে সে বোন নাজমুন নাহার লিপির সঙ্গে মেলায় আসে। এক ঘণ্টা আগে এসে দেখে, স্টল বন্ধ। পরে তারা বাংলা একাডেমী আয়োজিত শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। লিজা বলছিল, কিছু সায়েন্স ফিকশন আর অ্যাডভেঞ্চার বই কিনতে এসেছে সে।
সূত্রঃ ইন্টারনেট।
একুশের বই মেলা ২০০৯ টুকিটাকি ০৭ February 10th, 2009
শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। এরই মধ্যে জমেও উঠেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শক সমাগম। একুশের মেলায় প্রতি বছরই নারীদের লেখা নতুন নতুন বই আসে। এবারও প্রথম দিন থেকেই নারী লেখক এবং নারী বিষয়ক বেশ কিছু বই এসেছে। এবার মেলায় প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় লেখক সেলিনা হোসেনের ‘নির্বাচিত গল্প’। বইটিতে লেখকের ‘উৎস থেকে নিরন্তর’, ‘জলবতী’, ‘পরজন্ম’সহ বিভিন্ন গল্পগ্রন্থের জনপ্রিয় গল্পগুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে সৃজনী প্রকাশনী। এছাড়া একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে লেখকের শিশুতোষ গল্প ‘মিহিরুনের বন্ধুরা’ এবং ‘অন্যরকম যাওয়া’।
অন্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে নাসরীন জাহানের ‘আঁধারে রঙিন রাখাল’ উপন্যাস। উপন্যাসটি একজন অন্ধ নিঃসঙ্গ মানুষকে কেন্দ্র করে। যে তৃতীয় বিশ্বের যন্ত্রণাকর গড্ডালিকায় তলাতে তলাতে নিজেকে শেষবারের মতো দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হবে ‘চিল পাখির নীল ঠোঁটে’। এছাড়া এবারই প্রথম বইমেলায় নাসরীন জাহানের লেখা সব বই পাওয়া যাচ্ছে।
ব্রিটেন প্রবাসী লেখক সালেহা চৌধুরীর ছয়টি বই প্রকাশিত হচ্ছে এবারের মেলায়। ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে উপন্যাস ‘ব্রিটেন একটি দ্বীপ’। এটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশনী। বইটিতে ব্রিটেনের প্রবাসীদের জীবনের সুখ-দুঃখ-সংগ্রামের কাহিনী চিত্রিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে অনুবাদ গ্রন্থ, ‘নেলসন ম্যান্ডেলার বাণী’ এবং ‘বরফের হাঁস’। বই দুটি প্রকাশ করেছে সন্দেশ ও মুক্তদেশ প্রকাশনী। এছাড়া প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে আরো তিনটি উপন্যাস ও একটি শিশুতোষ গল্প।
পুরবী বসুর ‘নারীবাদী গল্প’ প্রকাশ করেছে ইত্যাদি প্রকাশনী। বইটিতে তার গল্পের পসরা থেকে নির্বাচন করা হয়েছে বিশেষভাবে নারীবাদী গল্পগুলো। সৌরভ সিকদার ও সালমা নাসরীনের গবেষণা ও সংকলন গ্রন্থ ‘বাংলা ভাষায় নারী শব্দাভিধান’ বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স। অভিধানে বাংলা ভাষায় প্রচলিত অপ্রচলিত শব্দ, অর্থ এবং উৎস দেখানো হয়েছে। নারীর প্রতি পুরুষের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য সেই প্রাচীনকাল থেকেই সমাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। এমনকি ভাষার ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এ অভিধান তারই সাক্ষ্য বহন করে।
একুশের বই মেলা ২০০৯ টুকিটাকি ০৬ February 9th, 2009

মুনতাসীর মামুনের বই দেয়ালের শহর ঢাকা প্রকাশ করেছেন প্রকাশ করেছেন আহমেদ মাহমুদুল হক, মাওলা ব্রাদার্স (ফোন: 7175227)। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।
বইয়ের প্রথম ফ্ল্যাপে লেখা আছে: “কখনও মসজিদের শহর, কখনও-বা বাগানের শহর এবং এখন রিকশার শহর হিসেবে ঢাকা খ্যাত। কিন্তু কীভাবে বাগানের শহর থেকে ঢাকা হয়ে গেল রিকশার শহর তার ধারাবাহিক ইতিহাস হয়তো আমাদের জানা নেই। বা আমরা কি জানি ঢাকার অসংখ্য রাস্তার নামকরণ হয়েছে কীভাবে?…ড. মুনতাসীর মামুনের ১০টি প্রবন্ধের সংকলন বর্তমান গ্রন্থ।… ”

সূত্রঃ আর্টস
একুশের বই মেলা ২০০৯ টুকিটাকি ০৫ February 9th, 2009

বারাক ওবামার এই বই সম্পর্কে লস এ্যাঞ্জেলেস টাইমস-এর জন বালজার জানাচ্ছেন: “এমনকী যাঁরা দলীয় রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ‘হোপ’ শব্দটি বিশ্লেষণ করতে চান, তাঁদেরও বলতে হবে যে, ওবামা সততার সাথে তাঁর কথা বলেছেন। তিনি রাজনৈতিক ভাবালু কথামালার বিস্তার না ঘটিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন, ও তাঁর সুচিন্তিত মত প্রকাশ করেছেন।” বই সম্পর্কে শেষ প্রচ্ছদে বলা হয়েছে: “এই বইয়ে বারাক ওবামা তুলনাহীন প্রাঞ্জলতায় প্রকাশ করেছেন তাঁর নবরাষ্ট্র ভাবনা, তাঁর স্বপ্ন-পরিকল্পনা; ও রচনা করেছেন কাম্য পরিবর্তনের রূপরেখা।”
পরিশিষ্ট অংশে অনুবাদকদ্বয় জানাচ্ছেন: “শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ কিংবা ইরাক যুদ্ধ এবং জেরুজালেম প্রসঙ্গও বাদ যায়নি তার লেখা থেকে।… ওবামার মতে, ‘কালো বা সাদা আমেরিকান কিংবা ল্যাটিনো বা এশিয়ান-আমেরিকান বলতে কিছু নেই — আছে কেবল ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।’”
বইটি প্রকাশ করেছেন মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, অঙ্কুর প্রকাশনী। (ফোন: 7111069)। ২৯৬ পৃষ্ঠার এই বইয়ের দাম রাখা হয়েছে ৩৫০ টাকা। মূল গ্রন্থের স্বত্বাধিকারীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে বই প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্রঃ আর্টস
একুশের বই মেলা ২০০৯ টুকিটাকি ০৪ February 4th, 2009

আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু। উপন্যাস। শহীদুল জহির। প্রকাশক: মাওলা ব্রাদার্স
শহীদুল জহিরের উপন্যাস আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু প্রকাশ করেছেন আহমেদ মাহমুদুল হক, মাওলা ব্রাদার্স (ফোন: 7175227)। ৩ ফেব্রুয়ারিতে মেলায় এসেছে বইটি। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।
বই সম্পর্কে প্রথম ফ্ল্যাপে বলা হয়েছে: কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের মৃত্যুর পর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো উপন্যাস আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু। এই আবু ইব্রাহীম ছিল একজন অসুখী লোক। অথচ উদ্ভাসিত হাসি বা পত্নী-প্রণয়ের বাইরে ছিল না সে। কিন্তু তার ছিলো ব্যর্থ প্রণয়ের বিষণ্নতা এবং যৌবনে লালিত রাজনৈতিক আদর্শ অর্জনের পথ থেকে সরে আসার গ্লানিবোধ।… একদিন নিজের কন্যা বিন্দুকে নিয়ে আবু ইব্রাহীম রমনা পার্ক হয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের এক চাঁপাফুল গাছের তলায় বসে অনুভব করে মেয়েটির সঙ্গে গল্প করতে তার ভালো লাগে। যেমন, অতীতে হেলেনের সঙ্গে কথা বলতে তার ভালো লাগত।… ৬৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ের দাম রাখা হয়েছে ৮০ টাকা।

সূত্রঃ আর্টস
