বেসরকারি মালিকানায় আরও ১০টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সমপ্রচারের প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে সরকার। নতুন অনুমতি পাওয়া বেসরকারি ১০টি টিভি চ্যানেল হলো- বেক্সিমকো গ্রুপের ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, স্কয়ার গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার অঞ্জন চৌধুরীর মাছরাঙা টেলিভিশন, মাহফুজুর রহমানের এটিএন নিউজ, আহমেদ জুবায়েরের সময়ের টেলিভিশন, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুর একাত্তর টেলিভিশন, চট্টগ্রামের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিজয় টিভি, গাজী গোলাম আশরিয়ার জিটিভি, সৈয়দা মাহবুবা আক্তারের চ্যানেল নাইন, কামাল আহমেদ মজুমদারের মোহনা টিভি ও নাসির উদ্দিনের মাই টিভি।
এর মধ্যে ‘সময়ের টেলিভিশন’ এর অন্যতম পরিচালক হচ্ছেন আইনপ্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ভাই মোরশেদুল ইসলাম। চ্যানেল নাইনের আবেদনকারী সৈয়দা মাহবুবা আক্তার দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলামের স্ত্রী।
অনুমতি পাওয়া অন্য কয়েকটি টিভি চ্যানেলের আবেদনকারীর তেমন পরিচিতি নেই।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি মালিকানায় ১১টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। নতুন ১০টি চ্যানেল এলে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ২১। এ ছাড়া সরকারি মালিকানায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড নামে দুটি টিভি চ্যানেল রয়েছে।

এখন আমার কথা হলো যাদেরকে চ্যানেল্গুলো দেয়া হয়েছে; তাঁরা কতটা নিরপেক্ষভাবে তাদের চ্যানেল পরিচালনা করবেন। মোট ২১টি চ্যানেল খুবই কি দরকারি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য? তবে একটি উপকার হয়েছে, বেকার সংস্থানের একটি উপায় হলো বলা চলে।
নিম্নের নিউজটি দেখুনঃ
Click Here to watch the News

মুরগা লেখক   May 25th, 2009

সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে কি না হয়? নিম্নের খবরটি একটু পড়ে দেখুন;

মুরগা লেখক

বাংলাবাজার বইয়ের বাজার। দেশজুড়ে এমনই পরিচয় তার। কিন্ত- বাংলাবাজারে সৃজনশীল প্রকাশকেরা এখন ‘মুরগা’ আর নেটবই নিয়ে শঙ্কিত। বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মুরগার দল। সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা এসব মুরগার পরাক্রমে বেকায়দায়।
এই মুরগা কুক্কুট শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাবাজারের প্রকাশকেরা একশ্রেণীর লেখককে দিয়েছেন এই মুরগা অভিধা। আর একশ্রেণীর প্রকাশকও পেয়েছেন ‘মুরগা ধরা’ প্রকাশকের খেতাব। বাংলাবাজারে মুরগা লেখকদের আমদানি ঘটেছিল ২০০০ সালে। লেখক হিসেবে খ্যাতি-পরিচিতি পাওয়ার মানসে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা একদল মসিধারীর আবির্ভাব ঘটেছিল তখন। অধিকাংশই বয়সে তরুণ। গ্রন্থ প্রকাশ করতে যে অর্থ খরচ হয়, তার সবটাই দিতে রাজি তারা। কথা শুধু একটাই-উপন্যাসটি যেন প্রকাশ হয়।
সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মুরগা লেখকদের প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। মুরগা লেখক-প্রকাশকদের কিছুটা প্রভাব-প্রতিপত্তি এতে কমেছে বটে, তবে বাংলাবাজারের প্রকাশনা মুরগাদের কবলমুক্ত হয়নি।
লেখকদের যেমন মুরগা খেতাব দেওয়া হয়েছে, তেমনি তাঁদের রচিত গ্রন্থেরও আছে বিশেষ নাম। মুরগা লেখকেরা প্রধানত উপন্যাস রচনা করে থাকেন। এসব উপন্যাসকে বাংলাবাজারে বলা হয় ‘নেটবই’। কমিশন নয়, নেট দামে বিক্রি হয় বলে এই নাম।
কেমন এসব উপন্যাস? কয়েকটির নাম-স্বর্গ পেয়েছি তোমাকে পেয়ে, লেখক গীতিকার বিরহী বিপ্লব। ভুল করেছি ছাত্র জীবনে ভালবেশে, লেখক বশির আহমেদ বিপ্লব। অনেক স্বপ্ন ছিল তোমাকে নিয়ে, লেখক মো. সোহেল রানা। মনের মাঝে তুমি, লেখক মো. মেহেদী হাসান সুমন। বোর্ড বাঁধাই, চার রঙা প্রচ্ছদ। নিউজপ্রিন্টে ছাপা। কোনো কোনো প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হয়েছে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবি। শেষ প্রচ্ছদে লেখকের ছবি, সঙ্গে বিস্তারিত ঠিকানার সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল ফোন নম্বর।
উপন্যাসের বিষয়বস্ত- আদি ও অকৃত্রিম-ভালোবাসা। রচনার কিছু নমুনা দেওয়া যাক। মনের মাঝে তুমি উপন্যাসটি শুরু এভাবে-এখন ছিল চৈত্র মাস। তখন চার দিকে ছিল মেঘে ডাকা। এর কিছুক্ষণ পরেই টিপ টিপ করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। এখন ও তখনের ব্যবহার লক্ষণীয়। আছে বেসুমার মুদ্রণ প্রমাদ। অবশ্য নেটবইগুলো প্রচলিত অর্থে পর্নো পুস্তক নয়। বর্ণনা দীর্ঘ না করলেও বোঝা যায় এসব নেটবইয়ের গুণমান কেমন।
লেখকেরা পাণ্ডুলিপি নিয়ে এলে প্রকাশকেরা তাঁদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন; ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু। লেখককে তাঁরা এক-দেড় শ কপি বই দিয়ে দেন। বাকি বই শতকরা হারে বিক্রি করেন ফুটপাতের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে।
ভয়ঙ্কর খবর হলো, এসব নেটবইয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্কুলের লাইব্রেরিতে। সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা জানিয়েছেন, অনেক স্কুলের শিক্ষক বাংলাবাজারে এসে ৫০ টাকা দামের নেটবই পাঁচ টাকা করে কিনে শতকরা ৪০ ভাগ কমিশনের রসিদ নিয়ে চলে যান। স্কুল কমিটিকে তাঁরা দেখান বই কেনা হয়েছে ৩০ টাকায়। নিজের পকেটে চলে যায় ২৫ টাকা।
নেটবইয়ের জমজমাট ব্যবসা চলেছে ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত, জানালেন নওরোজ সাহিত্য সম্ভারের কর্ণধার ইফতেখার রসুল। বাংলাবাজারের অনেক প্রকাশকই এসব বই ছাপিয়েছেন। ওই সময়টিতে নেটবইয়ের দাপট এত বেড়ে গিয়েছিল যে, তাতে মানসম্মত সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা বেশ মন্দার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে সুজনশীল বইয়ের প্রকাশকেরা নেটবইয়ের প্রকাশকদের চাপ দেওয়ায় মুরগা লেখকদের দাপট আগের তুলনায় কিছু কমেছে বলে জানান তিনি।
অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, নেটবই অত্যন্ত সস্তা, রংচঙা প্রচ্ছদ। অন্য বইয়ের দাম নেটবইয়ের মতো কমানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নেটবই ছাড়াও আছে পাইরেসি করা বই। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুলের মতো লেখকদের চিরায়ত গ্রন্থগুলোর পাইরেসি কপি পাওয়া যায় মাত্র ১০০ টাকা বা তার চেয়েও কম দামে। পাইরেসি করার সময় পাতার নম্বর ঠিক রেখে মাঝখান থেকে এক বা দুই ফর্মা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসসমগ্র, কিংবা শরৎচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ইত্যাদি নামে এসব পাইরেটেড বই ছাপা হচ্ছে প্রচুর। ভেতরে যে এক-দুই ফর্মা করে নেই, ক্রেতারা কেনার সময় তা কোনোভাবেই বুঝতে পারে না।
বিদেশি লেখকদের বিখ্যাত গ্রন্থ্থের ক্ষেত্রেও এই অবস্থা। তাই বই কিনে পস্তাতে না হলে নেটবই ও কম দামের বই কেনা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
আশীষ-উর-রহমান

কন্যাসন্তান হয় বাবার কারণে
সৌজন্যেঃ প্রথম আলো।
একজন মা মেয়েশিশু জন্ম দিলে গঞ্জনার শেষ থাকে না। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত সবখানেই এ ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। কিন্ত- সন্তান ছেলে হবে, না মেয়ে হবে-এর পেছনে ভূমিকা থাকে পুরুষ বা বাবার, কোনোভাবেই মায়ের নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে বললে বলতে হয়, নারীর ডিম্বাণুতে থাকে xx, আর পুরুষের শুক্রাণুতে থাকে xy ক্রেমোজোম। নারীর x আর পুরুষের y মিলিত হলে ছেলেসন্তান হয়, আর পুরুষের x-এর সঙ্গে নারীর x মিলিত হলে মেয়েসন্তান হয়। হিসাবটা খুব পরিষকার। পরিবর্তনটা হচ্ছে পুরুষের কারণে। এখানে নারীর কোনো হাত নেই।
কিন্ত- বিজ্ঞানের এত অগ্রগতির যুগেও যখন ভুল ব্যাখ্যা শুনি, তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। আমাদের দেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বিষয়টি জেনেও অনেকে মানতে চায় না, নাকি তাদের সঠিক শিক্ষা নেই? কদিন আগে পত্রিকায় পড়লাম, এক রিকশাচালক ঢাকায় এসেছেন রিকশা চালাতে। তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা, যাঁদের দুটো মেয়ে আছে। স্ত্রীকে তিনি বলে এসেছেন, এবার মেয়ে হলে তালাক দেবেন! তৃতীয়বার মেয়েসন্তান হওয়ার পর মা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
আরেকটা ঘটনা বলি, এক লোক দুবাই থেকে এসে এক চিকিৎসকের মেয়েকে বিয়ে করে দুবাই চলে গেলেন। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা; তাঁর শাশুড়ি বলে বেড়াচ্ছেন, ছেলে না হলে তাঁকে রাখবেন না। মেয়েসন্তান হওয়ার পর তাঁকে বাচ্চাসহ বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি-আপনি সবাই। বিনা কারণে মেয়েদের নারকীয় যন্ত্রণা কেন পোহাতে হবে? স্বাস্থ্যসচেতনতা সমপর্কে এত কথা বলা হয়, কিন্ত- আমাদের দুঃখিনী বোনদের দেখার জন্য কেউ নেই। আরও বহু ঘটনা আমাদের অজান্তে ঘটছে। ছেলেমেয়ে নিয়ে সমাজে বিভেদ করা উচিত নয়। তার পরও যদি কেউ ছেলেসন্তান চেয়ে না পায়, এর জন্য দায়ী হচ্ছে পুরুষ; এর জন্য নারীকে দোষারোপ করা উচিত নয়।
এত নারীনির্যাতন শিক্ষিত সমাজ কেমন করে সহ্য করে! সবাই নির্বিকার হয়ে থাকলে চলবে না। সব স্বাস্থ্যকর্মী ও ক্লিনিকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির জন্য পোসটার দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে। সবার কাছে সঠিক সংবাদ জানাতে হবে। ২০০৯ সালে এসে এসব কুসংস্কারের কারণে নারীনির্যাতন চলতে দেওয়া যায় না। আসুন, আমরা সবাই সতর্ক হই, যেন আর কোনো দুঃখিনী মা-বোনের নির্মম মৃত্যু না হয়।
আফজালুননেসা
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও চিকিৎসক
বিএসএমএমইউ, ঢাকা।

হাসান ভাই ধন্যবাদ আবারো, সব সময় সত্য বলার জন্য। আমার ব্লগ যারা পড়েন, আশা করছি তারা আগ্রহ সহকারে পড়বেন হাসান ভাই এর এই লেখাটি।

পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে

আবু হাসান শাহরিয়ার
ইন্দ্রের বরে মঙ্গলকাব্যের বেহুলা মৃতস্বামী লখিন্দরকে জীবিত ফিরে পেয়েছিল। রোমান পুরাণের সাইকিও খুঁজে পেয়েছিল নিখোঁজ স্বামী ভেনাসপুত্র কিউপিডকে। ২৫ ফেব্রুারির পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞে যারা স্বামীহারা হয়েছেন, তারা কাব্যলোকের বেহুলার কিংবা পুরাণের সাইকির ভাগ্য নিয়ে জন্মাননি। তাই “কী করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না” বলে মিডিয়ার ক্যামেরায় মর্মান্তিক কান্নায় ভেঙে পড়তে হয় নিখোঁজ ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূরের স্ত্রী তাসনোভা হায়দারকে। পাশে অবুঝ দুই শিশুসন্তান। দৃশ্যটি দেখে অনেকেই চোখ মুছেছেন ৩ মার্চ রাতে। সেনাকর্মকর্তা-পরিবারের নারীদের সঙ্গে বিডিআরের পথভ্রষ্ট জওয়ানদের অসদাচারণের কথা জানিয়েছেন তাসনোভা। শুধু তুইতুকারিই করেই ক্ষান্ত হয়নি ওরা, কোয়ার্টারগার্ডের গুমোট কক্ষে অবরুদ্ধ নারী-শিশুদের গাদাগাদি করে ফেলেও রেখেছিল। বলেছিল- “বোঝ্‌ কেমন কষ্টে থাকি আমরা।” না, সবাই অমানুষ হলে সভ্যতার চাকা থেমে যেত। গরমে শিশুদের কষ্ট হচ্ছে দেখে অবরুদ্ধদের সিলিংফ্যানসম্বলিত ঘরে আশ্রয় দিয়েছিলেন জওয়ানদেরই কেউ-কেউ।
যেহেতু লাশের সন্ধান মেলেনি, স্বামীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ আশা এখনও হয়তো জেগে আছে তাসনোভার মনে। তখন সব আশাই যাদের মুছে গেছে, মেজর আসাদের স্ত্রী সাইকি তাদেরই একজন। একদিন রোমান পুরাণ ঘেঁটে অভিভাবকদের কেউ তার নামটি রেখেছিলেন। যদিও ভাগ্য তার পুরাণের সাইকির মতো নয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল আসাদ-সাইকির ৬ষ্ঠ বিয়েবার্ষিকী। সুখের দিনটি পূর্বাপর আতঙ্ক আর কবরের নিস্তব্ধতায় অস্ত গেছে। কান্নাভেজা চোখে সেকথা বলার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন সাাইকি, যার সংবাদ ও সাক্ষ্য মূল্য আছে। কী সেই তথ্য? অবরুদ্ধকালে ডিএডি তৌহিদের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল সেলফোনে। পড়শি এই মানুষটিকে (নাকি ‘অমানুষটিকে’?) ‘ভাই’ ডেকেও কিংবা শিশুকন্যার দোহাই দিয়েও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। উল্টো প্রতারিত হয়েছেন। “আমার পিঠেও জওয়ানদের রাইফেলের নল, আমাকে আর ফোন করবেন না’ বলে সংযোগ কেটে দিয়েছিলেন তৌহিদ। অথচ এর পরপরই টিভির পর্দায় তাকে বিডিআর সদর দফতরের গেটে জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিতে দেখেছেন সাইকি। ঐ সময় শিশুকন্যাটি তার মাকে প্রশ্ন করেছিল- “ওরা আমার বাবাকে কষ্ট দিচ্ছে?” নিষ্পাপ ঐ শিশুটিকে তৌহিদ কোলেও নিয়েছেন নিকট-অতীতে। সেকথা মনে করিয়ে দেওয়ার পরও তার পাষাণহৃদয় গলেনি।
সাইকির সন্দেহ যদি গোয়েন্দাতদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তৌহিদকে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত করলেও যথেষ্ট হবে না। তাসনোভা-সাইকির মতো অর্ধশতাধিক নারীকে যারা চরম অসহায়ত্বের মুখে ঠেলে দিয়েছে, মদদদাতাসহ ঐ সব পাষণ্ডের কঠিনতম সাজা হওয়া উচিত। আবার তাসনোভাসহ কারও-কারও বক্তব্যে মানবিক আচরণসমপন্ন জওয়ানদের কথাও তো উঠে এসেছে। অতএব হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি পরিস্থিতির শিকার নিরপরাধ জওয়ানদের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। ভুললে চলবে না- তাদেরও সন্তান-পরিজন আছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাহসিকতাকেও খাটো করে দেখলে অন্যায় হবে। স্ত্রী-কন্যার পিছুডাক উপেক্ষা করে তিনিই তো প্রথম মৃত্যুউপত্যকায় পা বাড়িয়েছিলেন।
বিডিআর জওয়ানদের সুদীর্ঘ বঞ্চনাকে হত্যাকারীরা সুকৌশলে ব্যবহার করেছে- এ কথা কি অস্বীকার করার জো আছে? যদি তা-ই হয় ‘মানুষে-মানুষে সামাজিক ও অর্থনেতিক অসাম্য বিলোপ’কামী সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতি শাসকদের দীর্ঘ উপেক্ষাও বিডিআর নাশকতার জন্য দায়ী। হ্যাঁ, এই ঘটনা থেকে পাঠ নিয়ে পুলিশের রেশনবৈষম্য দূর করার চটজলদি সরকারি সিদ্ধান্তটি ভালো। কিন্তু দিনবদলের সনদ হাতে সংসদে বসতে না বসতেই সাংসদদের শুল্কমুক্ত গাড়ির বিলটি কেন আনা হয়েছিল? জনগণের আগে জনপ্রতিনিধিদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য? রবীন্দ্রনাথ বলেছেন- “পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।/ অজ্ঞানের অন্ধকারে/ আড়ালে ঢাকিছ যারে/ তোমার মঙ্গল ঢাকি গড়িছে সে ঘোর ব্যবধান।/ অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।” যতদিন না সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে বৈষম্য দূর হচ্ছে, ততদিন পশ্চাতে-থাকারা অগ্রবর্তীদের পশ্চাতে টানবেই। অপরাধ-সন্ত্রাস-নাশকতাও পুনঃপুনঃ সংঘটিত হবে।
শহীদ সেনাকর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ হয়েছেন। সরকার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সেনাপরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। খুবই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত এগুলো। প্রশ্ন এই যে- একই নাশকতায় নিহত বেসামরিক লোকজনের প্রতিও কি সমান সহমর্মিতা দেখাচ্ছে সরকার? ৪ মার্চের আমাদের সময়-এ প্রকাশিত খবরে প্রকাশ- রিকশাওয়ালা (মতান্তরে রাজমিস্ত্রি) আমজাদ, সব্জিবিক্রেতা হৃদয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তারেকের পরিবারের অভিযোগ- মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধীদলীয় নেত্রী দূরে থাক, এখন পর্যন্ত কোনও স্থানীয় সাংসদ তাদের খোঁজ নেননি। স্বামীর শেষকৃত্যের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ধার করতে হয়েছে আমজাদের স্ত্রী রাশেদা বেগমকে। কেন? তাসনোভা ও সাইকির চেয়ে রাশেদার ক্ষতি ও বেদনা কম কীসে? মানুষে-মানুষে বিস্তর বৈষম্যের দেশে- জীবনে না হোক- মরণে হলেও- অন্তত একটিবার- ধনী-গরিব, অফিসার-জওয়ান, আর্মি-সিভিলিয়ন- সব বৈষম্য দূর হোক। দুর্যোগকবলিত এই বিষাদকালে দুই নেত্রীর কটুকাটব্যময় বাকযুদ্ধ কারো কাম্য নয়। বন্ধ হোক সেটাও।