০১. আত্মকথা ১৯৭১ – নির্মলেন্দু গুণ
০২. উত্তরাধিকার(পত্রিকা) মানিক বন্দোপাধ্যায় স্মারক
০৩. উত্তরাধিকার(পত্রিকা) বুদ্ধদেব বসু স্মারক
০৪. দিনলিপি ও আমার শিল্পীজীবনের কথা – আব্বাসউদ্দিন
০৫. রোমন্থন অথবা ভীমরতি প্রাপ্ত্র পরচরিতচর্চা – তপন রায়চৌধুরী
০৬. প্রবন্ধ সংকলন – তপন রায়চৌধুরী
০৭. কেন আমি ধর্ম বিশ্বাসী নই – বারট্রান্ড রাসেল (বাংলা অনুবাদ)
০৮. বিষয় ইতিহাস – মুহম্মদ হাবিবুর রহমান
০৯. ডেটলাইন বাংলাদেশ ১৯৭১ – মফিদুল হক
১০. বাবর (১,২) – পিরিমকুল কাদরিভ
১১. হোয়েন রিলিজন বিকাম ইভল – চার্লস কিম্বল অনুবাদ (শওকত হোসেন)
১২. জেনোসাইড নিছক গণহত্যা নয় –
মফিদুল হক
১৩. নিরুদ্দেশ হাওয়ায়
হাওয়ায় – বেলাল চৌধুরী (আত্মকথা)
১৪. যৌনতা ও সংস্কৃতি – সুধীর চক্রবর্তী
১৫. মাতাল হাওয়া – হুমায়ূন আহমেদ
১৬. রূপা –
হুমায়ূন আহমেদ
১৭. নলিনী বাবু bs.c –
হুমায়ূন আহমেদ
১৮. হিমুর
নীল জোসনা হুমায়ূন আহমেদ
১৯. কাঠপেন্সিল –
হুমায়ূন আহমেদ
২০. শালুক (পত্রিকা) শহিদুল জহির স্মারক
২১. গানের খাতা – সঞ্জীব চৌধুরী (দলছুট)
২২. নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ – হায়াত মামুদ
২৩. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ভার –
মুহম্মদ হাবিবুর রহমান
২৪. যার যার ধর্ম –
মুহম্মদ হাবিবুর রহমান
২৫. কোরান সূত্র –
মুহম্মদ হাবিবুর রহমান
২৬. রুটস – এলেক্স হেলি (অনুবাদ – জুলফিকার নিউটন)
২৭. প্রণীত জীবন – সৈয়দ শামসুল হক
২৮. সেইসব দার্শনিক – সরদার ফজলুল করিম
২৯. নোবেল ভাষন রবীন্দ্রনাথ থেকে ক্লেজিও – হায়াত মামুদ
৩০. নোবেল ভাষন বাক থেকে পামুক – হায়াত মামুদ
৩১. শাহ আব্দুল করিম জীবন ও ধর্ম – মিহির কান্তি চৌধুরী
৩২. অবিদ্যার অন্তপুরে – আবুল আহসান চৌধুরী (মধ্যযুগের বারবনিতাদের আত্মকথা)
৩৩. সঢীক হুতোম প্যাঁচার নকশা – সম্পাদনা অরুণ নাগ
৩৪. খ্যাতিমানদের শৈশব – স্বকৃত নোমান
৩৫. মহাভারতের ভারত যুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
৩৬. কোয়ান্টম মেকানিক্স – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
৩৭. রাশা –
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
৩৮. দুই যাত্রার এক যাত্রী – সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
৩৯. স্বতন্ত্র ভাবনা – মক্তমনা সংগ্রহ
৪০. মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর – গোলাম মুরশিদ
৪১. জীবনানন্দ দাশ জন্মশত বার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ – আব্দুল মান্নান সৈয়দ ও আবুল হাসানাত
৪২. ঢাকা নামের শহর ও অন্যান্য –
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
৪৩. দেশ বিভাগ পশ্চাত ও নেপথ্য কাহিনী – ভবানীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
৪৪. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পক্ষ ও বিপক্ষ – শাহরিয়ার কবির
৪৫. অগ্রন্থিত গল্প – মাহমুদুল হক
৪৬. বাঙ্গালী জীবনে রমনী – নীরদচন্দ্র চৌধুরী
৪৭. গল্প সমগ্র – হুমায়ূন আহমেদ
৪৮. লালনকে কে বাঁচাবে – মফিদুল হক
৪৯. মনের মানুষ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
৫০. চিরসখা – নবকুমার বসু

মুরগা লেখক   May 25th, 2009

সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে কি না হয়? নিম্নের খবরটি একটু পড়ে দেখুন;

মুরগা লেখক

বাংলাবাজার বইয়ের বাজার। দেশজুড়ে এমনই পরিচয় তার। কিন্ত- বাংলাবাজারে সৃজনশীল প্রকাশকেরা এখন ‘মুরগা’ আর নেটবই নিয়ে শঙ্কিত। বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মুরগার দল। সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা এসব মুরগার পরাক্রমে বেকায়দায়।
এই মুরগা কুক্কুট শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাবাজারের প্রকাশকেরা একশ্রেণীর লেখককে দিয়েছেন এই মুরগা অভিধা। আর একশ্রেণীর প্রকাশকও পেয়েছেন ‘মুরগা ধরা’ প্রকাশকের খেতাব। বাংলাবাজারে মুরগা লেখকদের আমদানি ঘটেছিল ২০০০ সালে। লেখক হিসেবে খ্যাতি-পরিচিতি পাওয়ার মানসে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা একদল মসিধারীর আবির্ভাব ঘটেছিল তখন। অধিকাংশই বয়সে তরুণ। গ্রন্থ প্রকাশ করতে যে অর্থ খরচ হয়, তার সবটাই দিতে রাজি তারা। কথা শুধু একটাই-উপন্যাসটি যেন প্রকাশ হয়।
সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মুরগা লেখকদের প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। মুরগা লেখক-প্রকাশকদের কিছুটা প্রভাব-প্রতিপত্তি এতে কমেছে বটে, তবে বাংলাবাজারের প্রকাশনা মুরগাদের কবলমুক্ত হয়নি।
লেখকদের যেমন মুরগা খেতাব দেওয়া হয়েছে, তেমনি তাঁদের রচিত গ্রন্থেরও আছে বিশেষ নাম। মুরগা লেখকেরা প্রধানত উপন্যাস রচনা করে থাকেন। এসব উপন্যাসকে বাংলাবাজারে বলা হয় ‘নেটবই’। কমিশন নয়, নেট দামে বিক্রি হয় বলে এই নাম।
কেমন এসব উপন্যাস? কয়েকটির নাম-স্বর্গ পেয়েছি তোমাকে পেয়ে, লেখক গীতিকার বিরহী বিপ্লব। ভুল করেছি ছাত্র জীবনে ভালবেশে, লেখক বশির আহমেদ বিপ্লব। অনেক স্বপ্ন ছিল তোমাকে নিয়ে, লেখক মো. সোহেল রানা। মনের মাঝে তুমি, লেখক মো. মেহেদী হাসান সুমন। বোর্ড বাঁধাই, চার রঙা প্রচ্ছদ। নিউজপ্রিন্টে ছাপা। কোনো কোনো প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হয়েছে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবি। শেষ প্রচ্ছদে লেখকের ছবি, সঙ্গে বিস্তারিত ঠিকানার সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল ফোন নম্বর।
উপন্যাসের বিষয়বস্ত- আদি ও অকৃত্রিম-ভালোবাসা। রচনার কিছু নমুনা দেওয়া যাক। মনের মাঝে তুমি উপন্যাসটি শুরু এভাবে-এখন ছিল চৈত্র মাস। তখন চার দিকে ছিল মেঘে ডাকা। এর কিছুক্ষণ পরেই টিপ টিপ করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। এখন ও তখনের ব্যবহার লক্ষণীয়। আছে বেসুমার মুদ্রণ প্রমাদ। অবশ্য নেটবইগুলো প্রচলিত অর্থে পর্নো পুস্তক নয়। বর্ণনা দীর্ঘ না করলেও বোঝা যায় এসব নেটবইয়ের গুণমান কেমন।
লেখকেরা পাণ্ডুলিপি নিয়ে এলে প্রকাশকেরা তাঁদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন; ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু। লেখককে তাঁরা এক-দেড় শ কপি বই দিয়ে দেন। বাকি বই শতকরা হারে বিক্রি করেন ফুটপাতের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে।
ভয়ঙ্কর খবর হলো, এসব নেটবইয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্কুলের লাইব্রেরিতে। সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা জানিয়েছেন, অনেক স্কুলের শিক্ষক বাংলাবাজারে এসে ৫০ টাকা দামের নেটবই পাঁচ টাকা করে কিনে শতকরা ৪০ ভাগ কমিশনের রসিদ নিয়ে চলে যান। স্কুল কমিটিকে তাঁরা দেখান বই কেনা হয়েছে ৩০ টাকায়। নিজের পকেটে চলে যায় ২৫ টাকা।
নেটবইয়ের জমজমাট ব্যবসা চলেছে ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত, জানালেন নওরোজ সাহিত্য সম্ভারের কর্ণধার ইফতেখার রসুল। বাংলাবাজারের অনেক প্রকাশকই এসব বই ছাপিয়েছেন। ওই সময়টিতে নেটবইয়ের দাপট এত বেড়ে গিয়েছিল যে, তাতে মানসম্মত সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশকেরা বেশ মন্দার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে সুজনশীল বইয়ের প্রকাশকেরা নেটবইয়ের প্রকাশকদের চাপ দেওয়ায় মুরগা লেখকদের দাপট আগের তুলনায় কিছু কমেছে বলে জানান তিনি।
অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, নেটবই অত্যন্ত সস্তা, রংচঙা প্রচ্ছদ। অন্য বইয়ের দাম নেটবইয়ের মতো কমানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নেটবই ছাড়াও আছে পাইরেসি করা বই। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুলের মতো লেখকদের চিরায়ত গ্রন্থগুলোর পাইরেসি কপি পাওয়া যায় মাত্র ১০০ টাকা বা তার চেয়েও কম দামে। পাইরেসি করার সময় পাতার নম্বর ঠিক রেখে মাঝখান থেকে এক বা দুই ফর্মা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসসমগ্র, কিংবা শরৎচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ইত্যাদি নামে এসব পাইরেটেড বই ছাপা হচ্ছে প্রচুর। ভেতরে যে এক-দুই ফর্মা করে নেই, ক্রেতারা কেনার সময় তা কোনোভাবেই বুঝতে পারে না।
বিদেশি লেখকদের বিখ্যাত গ্রন্থ্থের ক্ষেত্রেও এই অবস্থা। তাই বই কিনে পস্তাতে না হলে নেটবই ও কম দামের বই কেনা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
আশীষ-উর-রহমান


বইমেলা একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। লেখক-পাঠক-প্রকাশক-মুদ্রক, বাঁধাইকার লাখ লাখ মানুষ মাসব্যাপী এই উৎসবে প্রত্যক্ষভাবে শরীক হচ্ছেন। আমাদের সংস্কৃতির যে জয়যাত্রা এই মহান একুশে উপলক্ষেই সূচিত ও বিকশিত হয়ে চলেছে।


লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার, চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ এবং মেরিডিয়ান চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ-এর পর চ্যানেল আই এবার আবৃত্তিকার সন্ধানে নামছে। আর এ লক্ষ্যে আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ‘চ্যানেল আই আবৃত্তি ছন্দে আনন্দে’। গতকাল চ্যানেল আই’র সিদ্ধেশ্বরীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় এই আয়োজনের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এমপি, চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, আবৃত্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ, প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক বিশিষ্ট আবৃত্তিকার প্রজ্ঞা লাবণী ও আবৃত্তিকার ইসতেকবাল হোসেন। আর উপস্থিত ছিলেন ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ও বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ইকবাল খোরশেদ। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবগত করতে গিয়ে আহকাম উল্লাহ বলেন, সারাদেশের ৪০টি জেলায় ১৩১টি আবৃত্তি সংগঠন রয়েছে। প্রতিযোগিতার জন্য সারাদেশকে ৮টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম, মাগুরা, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী। ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা শহর। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ১০ জন করে নির্বাচিত করে মোট ১০০ জনকে নিয়ে ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে মূল প্রতিযোগিতা। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম, মাগুরা, ও খুলনায় ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ঢাকা বিভাগে ও ঢাকা শহরে ১৪ থেকে ১৯শে ফেব্রুয়ারি এবং বরিশাল সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে ২০শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত পর্বে দুটি বিচারক প্যানেলে থাকবেন কাজী আরিফ ও লায়লা বানু এবং ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রজ্ঞা লাবণী। এছাড়াও অতিথি বিচারক হিসেবে থাকবেন সৈয়দ হাসান ইমাম, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবর্ণা মুস্তাফা, শিমুল ইউসুফ, আফরোজা বানু, রূপা চক্রবর্তী, রবিশংকর মৈত্রী ও আহকাম উল্লাহ। মূল পর্বের উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করবেন অপু মাহফুজ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রখ্যাত আবৃত্তিকার ও অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মৃত্যু দিবস ২০শে ফেব্রুয়ারিতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মূল মঞ্চে গোলাম মুস্তাফা, নরেন বিশ্বাস এর প্রতিকৃতি থাকবে। এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে খুঁজে বের করা হবে দেশ সেরা আবৃত্তি-কারকে।

‘ওরা চার জনা’   February 10th, 2009

একসঙ্গে হাবিব বালাম অর্ণব ফুয়াদ

চলতি বাজারে চারটি ভিন্ন ধারা নিয়ে সংগীতাঙ্গন মুখর করে রেখেছেন হাবিব, অর্ণব, বালাম এবং ফুয়াদ নামের চার তরুণ তুর্কি। আলাদা আলাদা ধারা নিয়ে প্রায় সমসাময়িক সময়ে চার জনই আমূল পরিবর্তন এনেছেন বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে। সেই চার জনই আসন্ন ভালবাসা দিবস উপলক্ষে এক হয়েছেন। তৈরি করেছেন ‘ওরা চার জনা’ নামের একটি ভিন্ন ধারার মিশ্র অ্যালবাম। নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেজ রেকর্ডস এর অর্থায়নে নির্মিত গবেষণাধর্মী এই মিশ্র অ্যালবামে হাবিব, অর্ণব এবং বালাম একটি করে তিনটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন স্ব স্ব সুর ও সংগীতা-য়োজনে। ঠিক সেই তিনটি গানই রিমেক করেছেন ফুয়াদ আল মুকতাদির। প্রসঙ্গক্রমে হাবিব বলেন, উদ্যোগটি অনেক ভাল এবং মজারও। আমরা চার জনই প্রায় সমসাময়িক, কাজও করছি প্রায় সমান গতিতে। আমাদের উদ্দেশ্যটাও প্রায় একই। বাংলা সংগীতের আধুনিকায়ন। সে হিসেবে আমাদের সফলতাও খারাপ নয়। সেই আমরাই এবার এক হলাম। একটা কাজ করলাম। অনেকটা এক্সপে-রিমেন্টাল। আবার নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতাটাও ছিল। কারণ, সবার মনেই ভয় ছিল এবং এখনো আছে- যদি আমার গানটি ভাল না হয়। যার ফলে গানগুলো ভাল হবে, এটুকু আশা করতেই পারেন। উল্লেখ্য, এ চার জনের আর কোন গান আসন্ন ভালবাসা দিবসের বাজারে প্রকাশ পাচ্ছে না।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস : পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম প্রতিবাদ
নবগঠিত পাকিস্তান গণপরিষদে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে প্রথম আলোচনা হয় ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গটি প্রথম উত্থাপিত হয় পাকিস্তান গণপরিষদে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ২৯ নম্বর উপধারা সংশোধনের জন্য ‘ইংরেজি’ ভাষার সঙ্গে ‘উর্দু’ ভাষার নাম সংযোজনের জন্য উত্থাপিত সরকারি প্রস্তাবে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সংসদীয় দলের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা প্রসঙ্গে একটি সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করেন।

“That in sub rule(1) of rule 29, after the word ‘English’ in line 2. the words ‘or Bengali’ be inserted”।
এ সংশোধনী প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্যরা যেসব ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন তাতে ‘বাংলা’ ভাষার নাম সংযোজন করতে চাওয়া হয়েছিল। এ সংশোধনী প্রস্তাবের সমর্থনেই ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে সর্বপ্রথম বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেছিলেন, “what should be the state language of the state? The state language of the state should be the language which is used by the majority of the people of the state, andtI consider that Bengali language is a lingua franca of our statetif English can have an honoured place in the rule 29 that the proceedings of the assembly shoud be conducted in Urdu or English. why Bengali, which is spoken by four crores forty lakhs of people should not have an honoured placet and therefore Bengalee should not be treated as a provincial language. It should be treated as the language of the state. And thereforet I suggested after the word `English’ the words `or Bengali’ be inserted in rule 29”।
কিন্তু ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের এ সংশোধনী প্রস্তাবটি সরকারি দলের প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। যদিও গণপরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পূর্ব বাংলা থেকে নির্বাচিত ছিলেন কিন্তু তারা ছিলেন মুসলিম লীগ দলীয় এবং উর্দুর সমর্থক। গণপরিষদের সভায় পাকিস্তানের মোহাজের প্রধানমন্ত্রী উর্দুভাষী নবাবজাদা লিয়াকত আলী খান ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সংশোধনীর তীব্র বিরোধিতা করে জ্বালাময়ী ভাষায় এক যুক্তিহীন ভাষণ দেন।
তিনি বলেন,
Pakistan has been created because of the demand of a hundred million Muslims in this sub-continent and the language of a hundred million Muslims is UrdutPakistan is a Muslim state and it must have as its lingua franca the language of the Muslim nationtUrdu can be the only language which can keep the people of East Bengal or eastern zone and the people of western zone jointed together. It is necessary for a nation to have one language and that language can only be Urdu and no other language.
প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের দাবি ‘ভারতের ১০ কোটি মুসলমানের ভাষা উর্দু’ ছিল অবাস্তব। কারণ ১৯২১ সালের ভারতের আদম শুমারি অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমান সমপ্রদায়ের মাতৃভাষার যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানের সংখ্যা ২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার, উর্দুভাষী মুসলমান ২ কোটি ১ লাখ ৯১ হাজার, পাঞ্জাবি মুসলমান ৭৭ লাখ, সিন্ধি মুসলমান ২৯ লাখ ১২ হাজার, কাশ্মিরি মুসলমান ১৫ লাখ, পশতুভাষী মুসলমান ১৪ লাখ ৬০ হাজার, বালুচি মুসলমান ২ লাখ ২৪ হাজার, ব্রাহুইভাষী মুসলমান ১ লাখ ২২ হাজার। ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম আদম শুমারিতে বাঙালির সংখ্যা ছিল ৫৪.৬, পাঞ্জাবি ২৮.৪, পশতু ৭.৮ উর্দু ৭.২, সিন্ধি ৫.৮ আর ইংরেজি ভাষাভাষী ১.৮ শতাংশ।
তথ্যসুত্র : ভাষা সৈনিক অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের বই ‘একুশ : ভাষা আন্দোলনের সচিত্র ইতিহাস’ থেকে উদ্ধৃত। (চলবে)

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস : পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ১২২ দিনের মাথায় আন্দোলনের সূচনা
ইসলাম ও পাকিস্তানের আদর্শে অনুপ্রাণিত ঢাকার তমদ্দুন মজলিশের গঠনমূলক প্রস্তাব নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাষানীতির ভিত্তি হতে পারতো। কিন্তু পাকিস্তানের উর্দু ভাষী মোহাজের বা পাঞ্জাবি ভাষী কেন্দ্রীয় শাসককুলের কর্ণকুহরে তা প্রবেশ করেনি। অন্যথায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তানের তৎকালীন রাজধানী করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হতে পারতো না। পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনের এ সর্বসম্মত প্রস্তাব বেতার ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় এসে পৌঁছানো মাত্র তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দুপুরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অধ্যাপক আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে প্রথম প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তৃতা করেন বামপন্থী ছাত্রনেতা মুনীর চৌধুরী এবং প্রস্তাব পাঠ করেন ডাকসুর তদানীন্তন সহসভাপতি ফরিদ আহমদ। উভয়েই তখন কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী ছিলেন। এভাবে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ১২২ দিনের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুরোনো কলাভবন প্রাঙ্গণে আমতলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের সভায় প্রথম প্রত্যক্ষভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সভার পর ছাত্রদের একটি মিছিল পূর্ব বাংলার তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনের বাসভবন বর্ধমান হাউস এবং মুসলিম লীগের মুখপত্র ইংরেজি দৈনিক ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকা অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এটাই ছিল বাংলা ভাষার দাবিতে প্রথম সভা, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ।
তথ্যসূত্র : ভাষাসৈনিক অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের বই ‘একুশ : ভাষা আন্দোলনের সচিত্র ইতিহাস’ থেকে উদ্ধৃত।


একুশ প্রতিদিন : ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পর্ব ০৪