Most email users should already be familiar with the tips offered at the Gmail blog. Here are the five tips posted at the website:

  • Remember to sign out
  • Be careful about sending certain sensitive information via email
  • Enable “Always use HTTPS.”
  • Be wary of unexpected attachments.
  • Make sure your account recovery information is up-to-date

Good News for Iphone and Voip user   October 15th, 2009

Now you can use Skype any time without using your minutes. It most likely will not work immediately but require an update to the apps or iPhone firmware via iTunes.

herta-muller.jpg
রুমানীয় বংশোদ্ভূত জার্মান লেখক হেরটা মুয়েলার সাহিত্যে ২০০৯ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি তঁার এ পুরস্কার পাওয়ার কথা ঘোষণা করে। সাহিত্যিক হিসেবে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তঁার সম্পর্কে বিচারকেরা বলেন, হেরটা মুয়েলার তঁার কবিতায় গভীর মনোনিবেশ ও গদ্যে অকপটতার মাধ্যমে বঞ্চিতদের চিত্র তুলে ধরেছেন।'
১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু করার পর থেকে ১২তম নারী হিসেবে হেরটা মুয়েলার এ পুরস্কার পেলেন। এর আগে ২০০৭ সালে ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ডোরিস লেসিং সাহিত্যে নোবেল জয় করেন।
হেরটা মুয়েলার ১৯৫৩ সালের ১৭ আগস্ট রুমানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রুমানিয়ার সংখ্যালঘু জার্মান পরিবারের সন্তান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তঁার মাকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়। রুমানিয়ায় হেরটার শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্য কেটেছে। সত্তরের দশকে তিনি রুমানিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক নিকোলাই চসেস্কুর গোপন পুলিশ বাহিনীকে সহযোগিতা না করার অভিযোগে শিক্ষকের চাকরি খোয়ান। ১৯৮৭ সালে অভিবাসী হিসেবে জার্মানিতে পাড়ি জমানোর আগ পর্যন্ত তিনি সরকারের হুমকির মুখে ছিলেন।
১৯৮২ সালে জার্মান ভাষায় লেখা হেরটা মুয়েলারের গল্পসংকলন নাডিরস প্রকাশিত হয়। এটিই তঁার প্রথম বই। বইটি চোরাই পথে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এসব দেশের জার্মানভাষী পাঠকদের কাছে বইটি দারুণভাবে সমাদৃত হয়। গল্পগুলোতে চসেস্কুর শাসনামলে রুমানিয়ার জার্মানভাষীদের গ্রামে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এ জন্য তত্কালীন রুমানীয় সরকার হেরটার গল্পগুলো কাটছঁাট করে। ১৯৮৪ সালে অপ্রেসিভ ট্যাংগো (ইংরেজি নাম) নামে তঁার আরেকটি গল্পসংকলন প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থটির কাহিনীতেও রুমানিয়ায় জার্মান ভাষাভাষীদের ওপর নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় উপন্যাস দ্য পাসপোর্ট। এরপর গল্প, উপন্যাস ও কবিতার অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে তঁার। মূলত একনায়ক চসেস্কুর আমলে রুমানিয়ায় বেড়ে ওঠা নিপীড়িত মানুষের জীবনচিত্রই উঠে এসেছে তঁার লেখনীতে। রুমানীয় বংশোদ্ভূত অপর শীর্ষস্থানীয় লেখক রিচার্ড ওয়াগনার হলেন হেরটা মুয়েলারের স্বামী।

Read the news from NY Times.

9/9/9   September 9th, 2009

Today is an interesting day!

Today is 09-09-09 i.e wednesday (sum of word is 9) – september (sum of word is 9) -252 (2 + 5 + 2 = 9) day of year.

Today is the 252 day of year. Sum of 252 is (2+5+2) = 9

If you add today’s date i.e ( 9 + 9 + 9 ) then it becomes 27. Sum of 27 ( 2 + 7 ) is also 9.



Riton Khan

নিম্নের খবরটি আমি আমার ব্লগে না শেয়ার করে পারলাম না, প্লিজ পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।
কালো বলে তালাক!
বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে বরপক্ষ। জমিজমা বিক্রি করে মেয়ের বাবা বরের হাতে তুলে দেন এক লাখ টাকা। বাকি দেড় লাখ টাকা তিনি পরে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্ত- বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় তালাকনামা পাঠায় বর। মেয়ের অপরাধ-তিনি দেখতে কালো। এটি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘটনা।
কথিত তালাকনামা পাওয়ার পর মেয়ের কান্না আর থামছে না। ১৯ বছরের ওই মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাঁচতে চাই না। কালো হওয়ায় আমার কপাল পুড়ল। আল্লাহ্‌ কেন আমাকে কালো করল। এই মুখ আমি কাউকে দেখাতে চাই না।’
মেয়ের এমন হাল দেখে বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও মুষড়ে পড়েছেন। মেয়ের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হতভাগীকে এত করে সবাই বোঝাচ্ছি, কিন্ত- সে বুঝতে চাইছে না। শুধু কাঁদছে।’
জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার আমরুলবাড়ী গ্রামের সচ্ছল পরিবারের মেনহাজুল ইসলামের (২৩) সঙ্গে গত ৩০ এপ্রিল মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়। এ জন্য মেয়ের বাবা ছেলেপক্ষকে আড়াই লাখ টাকাসহ আসবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মেনহাজের বাবা আমিনুল ইসলাম ওই দিনই মেয়ের বাবাকে কাজী ডেকে বিয়ে নিবন্ধন করার অনুরোধ করেন। মেয়ের বাবাও প্রস্তাবে রাজি হন। কিন্ত- নিবন্ধনের আগেই যৌতুকের সব টাকা চান আমিনুল ইসলাম। বেকায়দায় পড়েন মেয়ের বাবা। এরপর তিনি বিক্রি করেন আবাদি ৬৯ শতাংশ জমি। শেষমেশ যৌতুকের আড়াই লাখ টাকার মধ্যে তিনি বরের বাবার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন। এরপর ২ মে কাবিননামামূলে বিয়ে নিবন্ধন হয়। ৮ মে কনেকে তুলে দেওয়ার সময় বাকি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়ের বাবা।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাবিনের পর মেয়ের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। ৬ মে বরের এক বোন মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফিরে তিনি ওই মেয়েকে ঘরে না তোলার পরামর্শ দেন ভাইকে। কারণ মেয়েটির গায়ের রং কালো। এরপর বিয়ের সব আনন্দ-আয়োজন বিষাদে রূপ নেয়। ছেলে ও তাঁর বাবা কনেকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান।
বর মেনহাজের এক কথা, ‘মেয়ে কালো। ওই মেয়েকে বিয়ে করব না।’ বাধ্য হয়ে মেয়ের বাবা যৌতুক বাবদ দেওয়া এক লাখ টাকা ফেরত চান। কিন্ত- ছেলের বাবা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। গত ২৫ মে বর মেনহাজ রংপুর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কনের কাছে তালাকনামা পাঠান।
এ ঘটনার পর চোখের পানি ফেলতে ফেলতে মেয়ের বাবা বলেন, ‘মানসম্মান রক্ষার্থে ছেলের বাবার হাত-পা ধরেছিলাম। তবু তাঁরা আমার মেয়ের কাছে তালাকনামা পাঠিয়েছে। এখন তারা যৌতুক বাবদ টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করছে।’
বরের এলাকা বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ে নিবন্ধন হয়েছিল, কিন্ত- মেয়ে নাকি কালো। তাই ছেলে বিয়ে করতে চাইছে না। ছেলে তালাকনামা পাঠিয়েছে।’
বরের বাবা আমিনুল বলেন, ‘আমার ছেলের মেয়ে পছন্দ হয়নি। তাই তালাক দিয়েছে।’ যৌতুক নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসার করার আগে কেউ কাউকে টাকা দেয় না। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।’
মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বর মেনহাজ বলেন, ‘আমার মতামত না নিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করা হয়। তা ছাড়া মেয়েটি কালো। এ কারণে তালাক দিয়েছি।’ বিয়ের আগে মেয়ে দেখেছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘রাতে মেয়ে দেখেছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি।’
তবে নিকাহ নিবন্ধক আবু মুসা বলেন, ‘আমি ওই বিয়ের নিবন্ধন করেছি। ছেলে স্বেচ্ছায় কাবিননামায় সই করেছে।’
রংপুরের আইনজীবী সিরাজ আহম্মেদ বলেন, প্রচলিত আইনে নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট করে কোর্ট ম্যারেজ বা তালাক দেওয়ার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এটা একমাত্র নিকাহ নিবন্ধক করতে পারেন। মেয়েপক্ষ চাইলে এ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সৌজন্যেঃ প্রথম আলো

টুকরো কথা   November 19th, 2008

ঘড়ির কাঁটা মন মানে না সই
কাটাবনের রাস্তা জুড়ে ছায়া ঝিমায় অই
পেছনে ফেরে মাছের ছবি, ঘরের মাঝে বন
ফুলওয়ালি বিক্রি করে মন।

১৯৯৮ সালের ২৩শে জানুয়ারি তারিখে গানটি লিখেছিলেন সঞ্জীব চৌধুরী।
আর এই গানটি নিয়েই আজ আলবাম 'টুকরো কথা' বের হচ্ছে জি-সিরিজ থেকে।
টুকরো কথা গানটির কথা ও সুর সঞ্জীব চৌধুরীর।

একজন সঞ্জীব চৌধুরী
সঞ্জীব চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কার ছবি নেই, কেউ কি ছিল এই ভেবে ডুবে গেছে চাঁদ…


মানুষ জন্মগ্রহণ করে, পৃথিবীতে জীবনযাপন করে কিছুদিন, তারপর মৃত্যুতে ঘটে তার পরিসমাপ্তি। এভাবে যতো মানুষ আসে, সবাই চলে যায়। দু’চারদিন পর তাকে ভুলে যায় সবাই। এটাই সাধারণের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। কিন্তু যিনি কীর্তিমান, মানুষের মনে অপার ভালোবাসা যিনি রেখে যান, তাকে কেউ বিস্মৃত হয় না। তিনি থাকেন এবং নানা প্রসঙ্গে ঘুরে-ফিরে আসেন আমাদের মধ্যে। এমনই একজন মানুষ সঞ্জীব চৌধুরী, আমাদের প্রিয় সঞ্জীব দা। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের এই দিনে তিনি বাইলেটারেল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সাহিত্য-সংস্কৃতি, গানপাড়া, সাংবাদিক অঙ্গনসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। ১৯৬৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে মাস্টার্স করে আশির দশকে সাংবাদিকতা শুরু করেন সঞ্জীব চৌধুরী। আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনসহ বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ কাজ করেছিলেন যায়যায়দিনের ফিচার এডিটর হিসেবে। এখন যারা প্রিন্ট মিডিয়ায় সাংবাদিকতা করছেন তাদের অনেকেই সঞ্জীব চৌধুরীর হাতে গড়া। ছাত্রজীবনে শঙ্খচিল নামে একটি গানের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে একত্রিত হয়ে গঠন করেন ভিন্নধর্মী ব্যান্ড দলছুট। স্বপ্নবাজি নামে একটি একক অ্যালবাম মুক্তি পায় তার। ব্যান্ড ও সলো অ্যালবামে সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে গাড়ি চলে না, বায়োস্কোপ, আমি তোমাকেই বলে দেবো, কোন মেস্তিরি বানাইয়াছে নাও, আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ, সাদা ময়লা রঙিলা পালে, চোখ, কথা বলবো না প্রভৃতি। শিল্পী হিসেবে যতোটা জনপ্রিয় ছিলেন সঞ্জীব চৌধুরী, তারচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিলেন গীতিকার ও সুরকার হিসেবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক গীতিকারই তার দ্বারা প্রভাবিত। গানের পাশাপাশি কবিতাও লিখতেন সঞ্জীব চৌধুরী। দেশের প্রায় সব পত্রিকায়ই তার কবিতা ছাপা হয়েছে। তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থের নাম রাশপ্রিন্ট। শুধু কবিতা নয়, সঞ্জীব চৌধুরী বেশ কিছু ছোট গল্প ও নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। সঞ্জীব চৌধুরী অভিনীত একমাত্র নাটক সুখের লাগিয়া। সৃজনশীল ও মেধাবী এ মানুষটির মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৃজনশীলতার অনেক শাখা। তবু আমাদের বলতে হয়, সঞ্জীব চৌধুরীদের মৃত্যু নেই, তারা চিরকালই মানুষের স্মৃতিতে ভাস্বর।

যেভাবে চলছে সঞ্জীব চৌধুরীর পরিবার

সঞ্জীব চৌধুরী মারা যাওয়ার পর বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙক্ষীসহ মিডিয়া সংশ্লিষ্ট সবাই তার পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য কেউ কেউ আর্থিক সহযোগিতার কথাও বলেছেন। দেখতে দেখতে এক বছর পার হয়ে গেল, কিভাবে চলছে সঞ্জীব চৌধুরীর পরিবার- এ প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে প্রায় সবার মনে। এ ব্যাপারে সঞ্জীব চৌধুরীর স্ত্রী শিল্পীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি মায়ের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকছি। আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। কিংবদন্তিকে নিয়ে আমি বেশ ভালো আছি। সঞ্জীব চলে যাওয়ার পর অনেকেই আমাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, আমি বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছি। বলেছি, ভবিষ্যতে দরকার হলে চেয়ে নেবো। দুস্থ শিল্পী হিসেবে নিজের জন্য সাহায্য তোলা হবে- এটা খুবই অপছন্দ করতো সঞ্জীব। আমার নিজেরও পছন্দ নয়। হাসপাতালে থাকাকালে সঞ্জীবের জন্য অনেকেই অনেক কিছু করেছেন, আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখনো যারা সহযোগিতা করতে চাইছেন, তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ আমি। এ ব্যাপারে বাপ্পা মজুমদার বলেন, দাদা দলছুটের আজীবন সদস্য। দলছুটের পক্ষ থেকে দাদার জন্য একটা ফান্ড করা হয়েছে। দলছুটের স্টেজ শো ও অ্যালবামের রয়ালিটি থেকে দাদার ফান্ডে নিয়মিত টাকা জমা হচ্ছে। এ টাকা আমরা শিল্পীর হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলাম। শিল্পী এ টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং বলেছে, টাকাগুলো কোনো সামাজিক কাজে ব্যবহার করতে কিংবা গরিব-দুঃখী আর এতিমদের মধ্যে বিতরণ করতে।

সোলস ও দলছুটের কিংবদন্তি

সঞ্জীব চৌধুরী মারা যাওয়ার পর সোলস ও দলছুট ব্যান্ড সঞ্জীব চৌধুরী স্মরণে তারই লেখা গান নিয়ে একটা অ্যালবাম করার ঘোষণা দেয়। দেশের প্রায় সব পত্র-পত্রিকায়ই বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশিত হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত অ্যালবামটি আলোর মুখ দেখেনি। এ ব্যাপারে দলছুটের বাপ্পা মজুমদার বলেন, কিংবদন্তি নিয়ে দলছুটের কাজ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। সমস্যা হলো সোলসকে নিয়ে। ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় পার্থ দা সময় দিতে পারছেন না। আমরা ভাবছি, শেষ পর্যন্ত সোলস সময় দিতে না পারলে আমরা সঞ্জীব দার লেখা ৪-৫টি গান দিয়ে একটি অ্যালবাম করবো। এ ব্যাপারে সোলসের কর্ণধার পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হঠাৎ করে ক্লোজআপ ওয়ানে জড়িয়ে পড়ায় সময় দিতে পারিনি। ডিসেম্বরেই ক্লোজআপ ওয়ান শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপর প্রথমেই আমি কিংবদন্তি অ্যালবামের কাজ শুরু করবো।

একমাত্র মেয়ে কিংবদন্তি

সঞ্জীব চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে কিংবদন্তি। ২০০৪ সালের ১৮ মে জন্ম তার। প্রায় সাড়ে চার বছর বয়সের শিশু কন্যা কিংবদন্তি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি বাবা হারানোর বেদনা। তাই বেশ হেসে-খেলেই জীবন পার হচ্ছে তার। তবে হঠাৎ হঠাৎ বাবার কথা বলে উঠে সে। টিভিতে সঞ্জীব চৌধুরীর কোনো গান দেখলেই খুব খুশি হয়, দৌড়ে গিয়ে মাকে খবর দেয়। বাপ্পা মজুমদারকে দেখলেও একই রকম প্রতিক্রিয়া হয় তার। মিরপুরের এফএম মেথড স্কুলে নার্সারিতে পড়ছে কিংবদন্তি। আর কিছুদিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে কেজিতে উঠবে সে। স্কুল ও বাসার পড়া শেষ করেই টিভি দেখতে বসে সে। টিভিতে তার প্রিয় অনুষ্ঠান কার্টুন। টম অ্যান্ড জেরির ভীষণ ভক্ত সে। বড় হয়ে কি হতে চায় জানতে চাইলে কিংবদন্তি বলে, বড় হয়ে আমি ডাক্তার হবো। অবচেতন মন হয়তো বাবার চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারেনি।

সঞ্জীব বেঁচে আছে ওর গানে : শিল্পী

মিরপুরের প্রিয়াঙ্গন আবাসিক এলাকায় মায়ের বাড়িতে থাকেন সঞ্জীব চৌধুরীর স্ত্রী খন্দকার আলেমা নাসরীন শিল্পী। মা ছাড়াও এ বাড়িতে আরো রয়েছেন ছোট বোন ও তার হাজব্যান্ড। মা ও ছোট বোন চাকরি করেন উত্তরা ব্যাংকে। ছোট বোনের হাজব্যান্ড ডাক্তার। সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে যার কাজে চলে যান আর শিল্পী সারাটা দিন কাটিয়ে দেন কিংবদন্তির পড়াশোনা ও টেক কেয়ার করে। ভোরের কাগজ, আনন্দ ভুবনসহ কয়েকটি পত্রিকায় লেখালেখি আর পরে ডাইং ফ্যাক্টরি ও কপি রাইটার হিসেবে অ্যাড ফার্মে চাকরি করলেও এখন আর কিছুই করছেন না তিনি।
কিংবদন্তি বড় হওয়া পর্যন্ত, নিজেই নিজের দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত আর কোনো চাকরি করবো না। ওর বাবা না থাকায় একই সঙ্গে আমাকে বাবা ও মায়ের দায়িত্ব পালন করতে হয়।…দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন শিল্পী। সঞ্জীব চৌধুরীর অভাব কতোটা পীড়িত করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে কাউকে বলে বোঝানোর মতো নয়। একজন মানুষের শূন্যতা প্রতি মুহূর্তেই অনুভূত হয়। এ অনুভূতি ভাষাহীন। তবে গান শুনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় আমার। আমি তাই সিডি বাজিয়ে ওর গান শুনতে পারি না। মাঝে মাঝে রেডিওতে বাজে, তখন শোনা হয়। আমি চাই ওর গান আরো বেশি বেশি করে বাজুক, মানুষ ওর গান শুনুক। সঞ্জীব তো বেঁচে আছে ওর গানেই। গান ছাড়াও সঞ্জীবের মূল প্রফেশন ছিল সাংবাদিকতা। শেষের দিকে সঞ্জীব সাংবাদিকতা নিয়ে খুব হতাশ হয়ে পড়েছিল। সব সাংবাদিকের জন্যই ওর খুব দুঃখ হতো। ও বলতো, এটা হচ্ছে সার্বক্ষণিক একটা অনিশ্চয়তার জায়গা।


সঞ্জীব দাকে খুব মিস করি : বাপ্পা

গান করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তেই সঞ্জীব দাকে মিস করি। বিশেষ করে স্টেজে যখন সঞ্জীব দার গান করতে হয়, তখন খুব খারাপ লাগে। সঞ্জীব দার গানগুলো গাইতেও খুব কষ্ট হয়। একবার এক শোতে আমি তোমাকেই বলে দেবো গানটি গাইতে গিয়ে আমরা সবাই স্টেজেই কেঁদে ফেলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা গানটি করতে পারিনি। ব্যাক স্টেজে গিয়ে চোখ মুছেছি। প্রায় শোতেই এ রকম হয়। ঢাকার বাইরে শো করতে গেলে আসা-যাওয়ার পথে সঞ্জীব দাকে খুব মিস করি। আমাদের মধ্যে সারাক্ষণই সঞ্জীব দাকে নিয়ে কথা হয়। কারণ, শো করতে যাওয়া ও আসার পথে সঞ্জীব দা খুব দুষ্টুমি করতেন, মজার মজার কথা বলে সবাইকে খুব হাসাতেন। আজ সঞ্জীব দার মৃত্যু দিবস। এ দিবসে সঞ্জীব দাকে নিয়ে আমরা তেমন কিছুই করছি না। সবাই একবার দাদার বাসায় যাবো, বিকালে কফি হাউসের স্মরণসভায় অংশ নেবো। মৃত্যু দিবসকে সেলিব্রেট করতে চাই না। আসছে ২৫ ডিসেম্বর সঞ্জীব দার জন্মদিন। ওই দিনে অনেক কিছু করার প্ল্যান আছে আমাদের।